শরীরবিদ্যার ইতিহাস – History of Anatomy (Part 1)

মানুষের Anatomy-এর ইতিহাস দুটো ভাগে বিভক্ত। একটা হচ্ছে খ্রিষ্টপূর্ব সময়কার Anatomy, আরেকটা হচ্ছে খ্রিষ্টের জন্মের পরের সময়কার Anatomy. এখানে আমরা খ্রিষ্টপূর্বের Anatomy নিয়ে আলোচনা করবো।


খ্রিষ্টপূর্বের Anatomy

মানব সভ্যতার শুরুতে মানুষ খেয়াল করেছিলো যদি কোনো প্রাণিকে যদি আগুনে পোড়ানো হয় তবে সেই প্রাণিটা আর আগের মত থাকেনা। প্রাণির শরীরের পরিবর্তন ঘটে এবং প্রাণিটা মারা যায়।

চীনে সর্বপ্রথম খ্রিষ্টপূর্ব ২৭০০ থেকে ২৬০০ অব্দে প্রথম Anatomy এর একটা বই লেখা হয়েছিলো যার নাম ছিলো Neiching. পরবর্তীতে ১৭০০ থেকে ১৬০০ অব্দে মিশরে অনেক বুদ্ধিমান কিছু লোক বাস করতো। ওরা নকশা করতে পারতো, পিরামিড বানাতো। মানুষের শরীর নিয়ে এদের অনেক বেশি জ্ঞান ছিলো। এরাই পৃথিবীতে প্রথম মমি বানিয়েছিলো যেটার মূলকথা আজ পর্যন্ত রহস্যময়। তারা মানুষের মৃত শরীরকে এমনভাবে প্রক্রিয়াজাত করতো যাতে হাজার বছর ধরে এই শরীরে কোনো ব্যাকটেরিয়া বাসা না বাঁধে, শরীরকে না পচিয়ে ফেলে। এগুলোকে মমি বলা হয়। তাদের ব্যবহার করা কেমিক্যাল গুলোর অস্তিত্ব আজও জানা সম্ভব হয়নি।

খ্রিষ্টপূর্ব ১০০০ অব্দে ভারতবর্ষে আয়ুর্বেদী চিকিৎসার ধারা শুরু হয়। Sushruta কে ভারতের Father of Indian Surgery বলা হয়। তিনিই প্রথম মানুষের শরীরে অভ্যন্তরীণভাবে সার্জারি করে।

৯৬০ থেকে ৩৭৭ অব্দ পর্যন্ত সময়ে Hippocrates নামক একজন রোমান লোকের আবির্ভাব ঘটে যাকে Anatomy এর জনক বলা হয়। তিনি Father of Medicine নামে পরিচিত। মানুষের শরীরকে ব্যবচ্ছেদ করার নিয়মগুলো তিনি বের করেন তখন। এছাড়া তিনি শল্যবিদ্যা (বা Scapel) নিয়েও গবেষণা করেন। তিনি বিভিন্ন মৃতদেহকে ব্যবচ্ছেদ করে যান।

৩৮৪ থেকে ৩২২ খ্রিষ্টপূর্বে বিখ্যাত দার্শনিক এরিস্টটল আসেন। তিনিই প্রথম Anatomy টার্মকে ব্যবহার করেন। ভ্রূণবিদ্যা বা Embryology নিয়েও তিনি সবার প্রথম কথা বলেন। আমাদের শরীরের বিভিন্ন শিরা (Vein) এবং ধমনী (Arteries) এর নামকরণ করে যান তিনি। কিন্তু তিনি মনে করতেন আমাদের হৃদপিন্ড বা Heart হচ্ছে আমাদের সমস্থ বুদ্ধিমত্তা, চিন্তা, আবেগের কেন্দ্রাস্থল। তখন থেকেই বিশ্বে প্রতিটা মানুষ বিশ্বাস করে আসছে আমাদের চিন্তা-চেতনা সবকিছুর মূল উৎস হচ্ছে আমাদের হার্ট। কিন্তু এরিস্টটলের এই ধারনাটা ছিলো ভুল।

খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ থেকে ৩২৫ অব্দে আরেকজন লোক আসেন যার নাম Herophilus. তাকে The father of Anatomy বলা হয়। তিনি আমাদের মেরুদণ্ড এবং ব্রেইনের পার্টগুলো নিয়ে কথা বলে যান। তুমিই সবার প্রথম আমাদের ব্রেইনকে বুদ্ধিমত্তা, আবেগ এগুলোর মূল উৎস বলে গেছেন।

পড়াশোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শত শত ভিডিও ক্লাস বিনামূল্যে করতে জয়েন করুন আমাদের Youtube চ্যানেলে-

www.youtube.com/crushschool

ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool

Facebook Comments