বায়ু প্রবাহ (Airflow)

বায়ুর তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য এক স্থান থেকে আরেক স্থানে বায়ু সবসময় প্রবাহিত হয়। ভূপৃষ্টে সমান্তরালভাবে বায়ু চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে।

বায়ুপ্রবাহ সাধারণত কয়েকটি বিশেষ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়-

১) উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারি বায়ু নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।

২) ফেরেলের সূত্র (Ferrel’s Law) :  গোলাকৃতির পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে আবর্তন করছে, কিন্তু পৃথিবীর আবর্তন বেগ সব জায়গায় সমান না। নিরক্ষরেখা থেকে দুই মেরুর দিকে আবর্তনের গতিবেগ ক্রমশ কমতে থাকে। আবার ভূপৃষ্ট সংলগ্ন বায়ু ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে উপরের বায়ু থেকে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। এইসব কারণে পৃথিবীর ওপর কোনও গতিশীল পদার্থ, যেমন: বায়ুপ্রবাহ বা সমুদ্রস্রোতের গতির দিক সোজাসুজি উত্তর-দক্ষিণে না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাঁদিকে বেঁকে যায়। বায়ুর গতির এভাবে বেঁকে যাওয়ার নিয়মটি ফেরেলের সূত্র নামে পরিচিত। অর্থাৎ- বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। 

ফেরেলের সূত্র অনুসারে-

১) পৃথিবী স্থির থাকলে উত্তর গোলার্ধে যে আয়নবায়ু সরাসরি উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত হত, পৃথিবী আবর্তন করে বলে তা উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে বেঁকে উত্তর-পূর্ব আয়নবায়ু হিসাবে প্রবাহিত হয়।

২) পৃথিবী স্থির থাকলে যে বায়ু দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে সোজাসুজি প্রবাহিত হত, তা পৃথিবীর আবর্তনের জন্য খানিকটা বাম দিকে বেঁকে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়, যা দক্ষিণ-পূর্ব আয়নবায়ু নামে পরিচিত । দক্ষিণ-পূর্ব আয়নবায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করার পর উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু হিসাবে প্রবাহিত হয়।

চাপ বলয় (Pressure belts)

ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন অক্ষাংশের তাপের পার্থক্য এবং গোলাকার পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে বায়ুমন্ডলে কয়েকটি চাপ বলয় উৎপন্ন হয়-

  • নিরক্ষীয় চাপ বলয়
  • ক্রান্তিয় উচ্চচাপ বলয়
  • উপ মেরু বিত্তের নিম্নচাপ বলয়
  •  মেরু অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয়

পড়াশোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শত শত ভিডিও ক্লাস বিনামূল্যে করতে জয়েন করুন আমাদের Youtube চ্যানেলে-

www.youtube.com/crushschool

ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool

Facebook Comments