ব্রেডবোর্ড – Breadboard

ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর একদম শুরুতেই যে ল্যাব এক্সপেরিমেন্ট করানো হয় বিভিন্ন ভার্সিটিতে সেটা হচ্ছে ব্রেডবোর্ডকে নিয়ে।  কারন Bread board দিয়েই আমরা যেকোনো ধরনের circuit build করতে পারি।সাধারণত ব্রেডবোর্ডের ব্যবহার শেখানো হয় DC Circuit নামক কোর্সে। এই কোর্সের আরো অনেক নাম আছে যেমন DC Quantity, Circuit Analysis, Basic Electrical Engineering ইত্যাদি। Bread board ব্যবহার করা ছাড়া তুমি যদি Circuit build করতে চাও তবে কিছু সমস্যার মুখে পড়তে পারো।

যারা শখের বশে বিভিন্ন ইলেকট্রিক্যালের প্রজেক্ট বানায়, ইলেকট্রনিকসের কাজ করে তাদের প্রথম চয়েজ হচ্ছে ব্রেডবোর্ডে সার্কিট সাজানো।

ধরো তুমি একটা সাধারণ সার্কিট connection দিতে চাও। তখন একটা তারের সাথে আরেকটা তার পেঁচিয়ে connection দিতে হবে তোমাকে।

আবার connection দেয়ার পর যদি তুমি সার্কিটটাকে নড়াচড়া করো তাহলে তোমার connection গুলো খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আবার সার্কিটের তারগুলোকে জোড়া লাগানোর সময় তাদের মধ্যে ইলেকট্রিক টেপ লাগাতে হয়, যাতে তার খোলা না থাকে। তার খোলা থাকলে এক্সিডেন্ট ঘটে। আবার সার্কিটে কোথাও ভুল connection দিলে সেটাকে খোলাও কষ্টকর যদি তুমি ইলেকট্রিক টেপ দিয়ে সেটা ভালোভাবে লাগাও।

তাই সার্কিটের এসব connection কে মজবুত করার জন্য, কম সময় circuit build করার জন্য, কিংবা connection ভুল হলে সেটাকে কম সময় ঝামেলাহীন ভাবে ঠিক করে ফেলার জন্য আমরা Bread board use করি।

চলো একটা Bread board এর ছবি দেখি আমরা-

ব্রেডবোর্ড

ছবি থেকে বুঝতে পারছো এটাতে অনেকগুলো ছোট ছোট hole কিংবা ছিদ্র আছে। এসব hole এর ভেতরে আমরা তার কিংবা কোনো ইলেকট্রিক element এর পিন ঢুকিয়ে circuit build করতে পারি। circuit build করার আগে bread board এর hole গুলোকে চিনতে হবে।

Bread board এ সাধারণত দুই গ্রুপের hole দেখি আমরা। বোর্ডের একদম উপরে এবং একদম নিচে একই ধরনের hole লম্বালম্বি ভাবে বসে থাকে।

আর বোর্ডের ঠিক মাঝে আরেক ধরনের hole থাকে যারা পাশাপাশি ভাবে বসে থাকে।

এখন, একদম উপরে এবং নিচের hole গুলোকে দেখি। এখানে নীল রঙের কিছু hole দেখা যাচ্ছে। Bread board-এ এরা সবাই একই hole. অর্থাৎ এদের যেকোনো একটার ভেতর তার (wire) ঢুকালে যা হবে, অন্যটার ভেতর তার ঢোকালে একই রকম হবে ব্যাপারটা।

আবার মাঝখানের দিকের hole গুলোকে দেখি। এখানে ৫ টা করে লম্বালম্বিভাবে বসানো hole আছে, লাল রঙ দিয়ে চিহ্নিত করা। Bread board-এ এরা সবাই একই hole. এদের যেকোনো একটার ভেতর তার (wire) ঢুকালে যা হবে, অন্যটার ভেতর তার ঢোকালে ব্যাপারটা একই রকম হবে।

অর্থাৎ Bread Board-এর একই রকম লাইনগুলো হচ্ছে-

ব্রেডবোর্ড

আরেকটু ঝালাই করি–

ছবিতে দেখো আমরা একটা ব্যাটারি থেকে দুটো terminal bread board এর যেকোনো দুটো hole এ ঢুকিয়ে দিলাম। তখন সেই দুটো hole-এর সাথে যুক্ত বাকি hole গুলোতেও ব্যাটারির voltage যাবে।

ব্রেডবোর্ড

ছবিতে সবুজ hole সবাই ব্যাটারির +ve charge এবং -ve charge বহন করছে।

ব্রেডবোর্ড ব্যবহার করার কিছু সুবিধা-

  • যেকোনো সময় যেকোনো সার্কিট বানানো যায় এটা ব্যবহার করে
  • সার্কিট ডায়াগ্রাম দেখে সার্কিটকে টেস্ট করা যায় এটা ব্যবহার করে
  • তারগুলো ব্রেডবোর্ডের ছিদ্রের ভেতর ঢোকানো থাকে বলে ইলেকট্রিক শক লাগার চান্স কম
  • সার্কিটে ব্যবহার করা বিভিন্ন ডিভাইস যেমন resistor, capacitor, inductor, potentiometer, battery, IC, transistor এগুলোর পিনগুলো খুব সহজে ব্রেডবোর্ডে লাগানো যায়।
  • ব্রেডবোর্ডের ওজন কম, সহজে বহন করা যায়
  • একটা ব্রেডবোর্ডের সাথে আরেকটা ব্রেডবোর্ডকে যুক্ত করে বড় ব্রেডবোর্ড বানানো যায়।
  • ব্রেডবোর্ডের দাম কম এবং যেসব তার বা connecting wire দিয়ে ব্রেডবোর্ডে সার্কিট বানানো হয় সেগুলোর দামও কম।

ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool

অতিথি লেখক হিসেবে আমাদেরকে আপনার লেখা পাঠাতে চাইলে মেইল করুন-

write@thecrushschool.com

Emtiaz Khan

A person who believes in simplicity. He encourages the people for smart education. He loves to write, design, teach & research about unknown information.