ওয়েবসাইটের প্রকারভেদ (Classification of Website)

বর্তমানে দুই ধরনের ওয়েবসাইটকে বেশি দেখা যায়। এগুলো হলো-

  • Static বা স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট
  • Dynamic বা পরিবর্তনশীল ওয়েবসাইট

 

স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট

যেসব ওয়েবসাইটে আগে থেকেই তথ্য সংরক্ষণ করা হয় এবং দীর্ঘ সময় পর পর ওয়েবসাইটের হালনাগাদ, সংশোধন এবং নতুন কোনো তথ্য আপডেট দেয়া হয় সেই ধরনের ওয়েবসাইটকে স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট বলে।

অন্যভাবে বলা যায়- যেসব ওয়েবসাইটে ভিজিট করার পর ওয়েবপেজের ডিজাইনকে পরিবর্তন করা যায় না, তাদেরকে স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট বলে।

বৈশিষ্ট্য

  • স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট খুব দ্রুত লোড হয়।
  • এতে নির্দিষ্ট সংখ্যক ওয়েবপেজ থাকে।
  • এর তথ্য বা কনটেন্টের পরিমান বেশ কম।
  • কম খরচে এই ধরনের ওয়েবসাইটগুলো চালানো যায়।
  • ওয়েবসাইট ডিজাইন করা সহজ বলে দক্ষ ওয়েব ডিজাইনারের দরকার হয় না।
  • ওয়েবসাইট ডিজাইন করা হয় কেবলমাত্র HTML এবং CSS প্রোগ্রামিং ব্যবহার করে।
  • যারা এই ওয়েবসাইটে ভিজিট করে তারা ওয়েবসাইটের ডিজাইন বদলাতে পারে না।
  • সার্ভার থেকে ক্লায়েন্টের দিকে একমুখী ভাবে তথ্য সরবরাহ করে এই ধরনের ওয়েবসাইট।
  • এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করা নিরাপদ কারন এগুলোকে সহজে হ্যাকাররা হ্যাক করতে পারে না।

স্ট্যাটিক ওয়েবসাইটের উদাহরণ: ক্রাশ স্কুল ওয়েবসাইটটি একটি স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট। কারন তুমি এতে সকাল-বিকেল যেকোনো সময়ে ভিজিট করো না কেনো, সবসময় প্রায় একই ধরনের ডিজাইন এবং তথ্য দেখতে পাবে। এছাড়া তুমি ভিজিট করার পর কোনো কিছু এই ওয়েবসাইটে আপলোড করতে পারবে না। তাই এটি একটি স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট।

এছাড়া তুমি যত স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি কিংবা কোনো কোম্পানি-প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট দেখতে পাবে সব স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট।

 

ডাইনামিক ওয়েবসাইট

যেসব ওয়েবসাইটে প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন তথ্য আপডেট হয় এবং পরিবর্তনশীল তথ্য দেখা যায় তাদেরকে ডাইনামিক ওয়েবসাইট বলে।

অন্যভাবে বলা যায়- যেসব ওয়েবসাইটে ভিজিট করার পর ওয়েবপেজের ডিজাইনকে পরিবর্তন করা যায়, তাদেরকে ডাইনানিক ওয়েবসাইট বলে।

বৈশিষ্ট্য

  • স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট ধীরে ধীরে লোড হয়।
  • এতে অনেকগুলো ওয়েবপেজ থাকে।
  • এর তথ্য বা কনটেন্টের পরিমান বেশি থাকে।
  • প্রচুর খরচ লাগে এই ধরনের ওয়েবসাইটগুলো চালানোর জন্য।
  • ওয়েবসাইট ডিজাইন করা বেশ কঠিন বলে দক্ষ ওয়েব ডিজাইনারের দরকার হয়।
  • ওয়েবসাইট ডিজাইন করা হয় উচ্চমানের প্রোগ্রামিং ভাষা যেমন PHP, ASP, JSP ব্যবহার করে।
  • যারা এই ওয়েবসাইটে ভিজিট করে তারা ওয়েবসাইটের ডিজাইন বদলাতে পারে।
  • সার্ভার থেকে ক্লায়েন্টের দিকে এবং ক্লায়েন্ট থেকে সার্ভারের দিকে দ্বিমুখী ভাবে তথ্য সরবরাহ করে এই ধরনের ওয়েবসাইট।
  • এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করা তেমন নিরাপদ না কারন এগুলোকে সহজে হ্যাকাররা হ্যাক করতে পারে।

ডাইনামিক ওয়েবসাইটের উদাহরণ: আমাদের বহুল ব্যবহৃত ফেসবুক একটি ডাইনামিক ওয়েবসাইট। কারন আমরা সকালে ফেসবুকে লগ ইন করলে হোমপেজে যে অবস্থা দেখি, দুপুরে লগ ইন করলে ভিন্ন অবস্থা দেখি। কারন প্রতি মুহূর্তে ফেসবুকে আমাদের ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা বন্ধুরা বিভিন্ন স্ট্যাটাস এবং ছবি আপলোড দেয়। তাই হোমপেজের চেহারাও পরিবর্তন হয়ে যায়।

আবার আমরা নিজেরাও ফেসবুকে বিভিন্ন তথ্য দিতে পারি। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট থেকে সার্ভারের কাছে তথ্যটা যাচ্ছে। তাই ফেসবুক ডাইনামিক ওয়েবসাইট।

ডাইনামিক ওয়েবসাইটের আরো একটা উদাহরণ হচ্ছে youtube. কারন আমরা এতে বিভিন্ন লেখা দিতে পারছি এবং সেই লেখাগুলো অনুযায়ী youtube বিভিন্ন ভিডিও আমাদের হোমপেজে দেখাচ্ছে এবং হোমপেজকে পরিবর্তন করতে পারছে।

ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool

অতিথি লেখক হিসেবে আমাদেরকে আপনার লেখা পাঠাতে চাইলে মেইল করুন-

write@thecrushschool.com

Emtiaz Khan

A person who believes in simplicity. He encourages the people for smart education. He loves to write, design, teach & research about unknown information.