সৌরজগতের ধারণা (Concept of Solar System)

আমরা যে পৃথিবীতে থাকি সে পৃথিবীর সমস্থ শক্তির উৎস হচ্ছে সূর্য। সূর্য এক ধরনের নক্ষত্র। সূর্য এবং একে ঘিরে যেসব গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণু, উল্কা, ধূমকেতু এবং খুব পাতলা গ্যাসের যে স্থর থাকে তাদেরকে একত্রে সৌরমণ্ডল বা Solar System বলে।

কয়েক ট্রিলিয়ন বছর আগে solar system এর এই অবস্থা ছিলো না। কারন তখন শুধুমাত্র সূর্যের অস্তিত্ব ছিলো, বাকি গ্রহ-উপগ্রহগুলো ছিলো না। পরবর্তিতে সূর্যের বিস্ফারণের ফলে তার ভাঙ্গা অংশগুলো দিয়ে বাকি গ্রহ-উপগ্রহগুলো তৈরি হয়েছিলো। পুরো solar system এর 98% ভর হচ্ছে সূর্যের, বাকি ভরগুলো থাকে সূর্যকে ঘিরে ঘুরতে থাকা গ্রহ-উপগ্রহগুলোর মাঝে। সূর্যের চারপাশের গ্রহগুলো হচ্ছে- বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, ইউরেনাস, নেপচুন এবং শনি।

প্রাচীনকালে solar system নিয়ে অনেক ধরনের মতবাদ প্রচলিত ছিলো। নিয়ে এর কয়েকটা উল্লেখ করা হলো-

Earth at Center (পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্রে)

যখন গ্রীক দার্শনিকরা মহাকাশে তারাগুলোকে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরতে দেখতেন তখন তারা মনে করতেন তারাদের প্যাটার্ন কখনোই পরিবর্তন হচ্ছে না। সবসময় একইভাবে তারা ঘুরছে পৃথিবীকে ঘিরে। তাদের আরো একটা ধারনা ছিলো যে তারা গুলো পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরলেও এরা একে অপরের সাপেক্ষে নির্দিষ্ট দুরত্বে স্থির ছিলো।

এছাড়া গ্রীকের দার্শনিক এবং Astronomer রা মহাকাশে সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহ যেমন Mercury, Venus, Mars, Jupiter এবং Saturn এর খোজ পেয়েছিলেন। প্রাচীন গ্রীক Astronomer Aristarchus মনে করতেন পৃথিবী হচ্ছে মহাকাশের কেন্দ্র এবং পৃথিবীকে কেন্দ্র করে পুরো মহাকাশের সমস্থ বস্তু ঘুরছে। পরবর্তীতে দার্শনিক Aristotle এবং Ptolemy তার এই আইডিয়াকে সমর্থন করেছিলেন। ফলে এই মতবাদ বহু বছর ধরে মেনে চলা হচ্ছিলো।

তাদের এই মতবাদ অনুসারে Sun, Moon এবং অন্যান্য গ্রহরা পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে বিভিন্ন কক্ষপথে। Ptolemy এর Solar system বিষয়ক এই মতবাদকে Geocentric Universe মডেল বলে। তার এই মতবাদটা হাজার বছরের বেশি সময় ধরে মানা হয়েছিলো।

Sun at the Center (সূর্য মহাবিশ্বের কেন্দ্রে)

পৃথিবীতে যখন টলেমির Geocentric Model নিয়ে পড়াশোনা হচ্ছিলো তখন সবাই তার এই মডেলটা মেনে নিতে পারেনি। গ্রীকের আরো কিছু বিজ্ঞানী তখন এই মডেলের বিরোধিতা শুরু করে এবং তারা নিজেরা একটা মডেল উপস্থাপন করে আমাদের সৌরজগতকে নিয়ে। তাদের মডেলটির নাম হচ্ছে Heliocentric Model. অর্থাৎ এই মডেলে Helios (গ্রীক শব্দ, যার অর্থ সূর্য) বা সূর্য থাকবে মহাবিশ্বের কেন্দ্রে এবং তাকে কেন্দ্র করে বাকি গ্রহ-উপগ্রহগুলো ঘুরতে থাকবে। এর আরেক নাম Sun Centric Model. তবে টলেমির মডেলের জনপ্রিয়তা বেশি হওয়ায় এই মডেলটি তখন কারো কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।

১৫৪৩ সালে নিকোলার কোপার্নিকাস নামক এক Astronomer একটা মডেল সবার কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেন Sun centric Model কে। যেখানে সূর্যকে Solar system এর একদম কেন্দ্রে স্থান দেওয়া হয়েছিলো।

পরবর্তীতে জোহানস কেপলার নামে এক Astronomer সূর্যের চারপাশে গ্রহদের ঘূর্ণন নিয়ে বিখ্যাত তিনটি সূত্র দেন। তিনি প্রথম খেয়াল করেন সূর্যের চারপাশে গ্রহগুলো বৃত্তাকারে না ঘুরে উপবৃত্তাকার পথে ঘোরে। এই ধারণাটি দেওয়ার পর গ্রহদের ঘূর্ণন বিষয়ক অনেক কনফিউশন দূর হয়।

বর্তমানে Solar system এর Heliocentric Model সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। কারন সূর্যকে কেন্দ্র করে আমাদের সৌরজগতের সমস্থ গ্রহ-উপগ্রহগুলো প্রতিনিয়ত ঘুরছে।

আমাদের সৌরজগতে যেসব গ্রহগুলো রয়েছে তাদেরকে ঘিরেও আবার সেসব গ্রহের থেকে ছোট ছোট বস্তু প্রতিনিয়ত ঘুরছে। এরা হচ্ছে উপগ্রহ। গ্রহ এবং উপগ্রহ কারোই নিজেদের আলো নেই। সূর্যের থেকে আলো ধার নিয়ে এরা চলে। Mercury, Venus, Earth এবং Mars হচ্ছে মোটামুটি ছোট আকারের এবং কঠিন গ্রহ। ওদিকে Jupiter, Saturn, Uranus এবং Neptune হচ্ছে অনেক বড় এবং পাতলা গ্যাসযুক্ত গ্রহ। Mars এবং Jupiter এর মধ্যবর্তী জায়গায় একটা বেল্ট থাকে যাকে Asteroid Belt বলে। এই বেল্টে বিলিয়ন বিলিয়ন শিলা বা Rock থাকে।

সূর্যের একদম কাছের গ্রহটি হচ্ছে Mercury বা বুধ গ্রহ। এটি প্রচন্ড গরম হওয়ায় এখানে মানুষের বসবাসের কোনো সুযোগ নেই। সূর্য থেকে যত দুরত্ব বাড়তে থাকে, গ্রহগুলোর ঠান্ডা হবার পরিমানও বাড়তে থাকে। এমন Neptune গ্রহের উপরিভাগে icy objects বা অত্যন্ত ঠান্ডা বস্তুর উপস্থিতি পাওয়া যায়।

ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool

অতিথি লেখক হিসেবে আমাদেরকে আপনার লেখা পাঠাতে চাইলে মেইল করুন-

write@thecrushschool.com