মহাজাগতিক বস্তু : ছায়াপথ

অনেকগুলো নক্ষত্র, গ্রহ এবং উপগ্রহ নিয়ে একেকটা গ্যালাক্সি তৈরি হয়। আমাদের পৃথিবী যেই গ্যালাক্সির মধ্যে রয়েছে তার নাম আকাশগঙ্গা বা মিল্কিওয়ে (Milky Way) গ্যালাক্সি। আমাদের পার্শ্ববর্তী আরো একটি গ্যালাক্সির নাম হচ্ছে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি।

প্রতিটা গ্যালাক্সি একটা নির্দিষ্ট অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে। আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে প্রায় 1011 সংখ্যক নক্ষত্র রয়েছে। গ্যালাক্সি থেকে এক ধরনের ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন পালস বিকিরণ করে। তবে কিছু কিছু গ্যালাক্সিতে এই ধরনের রেডিয়েশন বিকিরণ নাও করতে পারে। ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক পালস রেডিয়েশন এর তরঙ্গটি হচ্ছে বেতার তরঙ্গের মতো।

গ্যালাক্সি সাধারণত দুই ধরনের হয়।

i) স্বাভাবিক গ্যালাক্সি

যেসব গ্যালাক্সি থেকে কোনো ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক পালস রেডিয়েশন বের হয় না সেসব গ্যালাক্সিকে স্বাভাবিক গ্যালাক্সি বলে। আমাদের আকাশগঙ্গা গ্যালাক্সিটিও এক ধরনের স্বাভাবিক গ্যালাক্সি।

স্বাভাবিক গ্যালাক্সিকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়-

এই ধরনের গ্যালাক্সির ভেতরে লোহিত দানব এবং শ্বেত বামন নক্ষত্র থাকে। মনে রাখতে হবে, মহাকাশে 18% গ্যালাক্সি হচ্ছে উপবৃত্তাকার।

এই ধরনের গ্যালাক্সি গুলো মহাকাশে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে। মহাকাশের প্রায় 80% গ্যালাক্সি হচ্ছে সর্পিল প্যাঁচানো গ্যালাক্সি। আমাদের মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা গ্যালাক্সি এক ধরনের সর্পিল গ্যালাক্সি। আমাদের পার্শ্ববর্তী গ্যালাক্সি অ্যান্ড্রোমিডাও এক ধরনের সর্পিল গ্যালাক্সি। সর্পিল গ্যালাক্সিদের ব্যাস বা Diameter হচ্ছে 10-50 kilo parsec বা 0.3 থেকে 15*1015 km. প্রতিটা সর্পিল গ্যালাক্সি একটা লম্ব অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘুরে।

 

 

আমাদের সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত অক্ষ থেকে 8.5 kilo parsec দূরে রয়েছে। তাহলে বোঝো, আমাদের সূর্য বা সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির অক্ষ থেকে খুব কাছেই অবস্থিত।

যখন কোনোকিছু কোনো অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘুরে তখন তার কাছাকাছি অবস্থানে সেটি খুব দ্রুত ঘুরতে পারে কিন্তু দূরবর্তী অবস্থানে সেটি আস্তে আস্তে ঘুরে। তাই আমাদের সৌরজগৎ যেহেতু মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির অক্ষের খুব কাছাকাছি অবস্থান করে তাই আমাদের সৌরজগৎ খুব দ্রুত মিল্কিওয়ে অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘুরতে পারে। যদিও আমাদের সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির অক্ষকে কেন্দ্র করে খুব দ্রুত ঘুরে তারপরও সেই অক্ষকে কেন্দ্র করে তার সম্পূর্ণ একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে 240 মিলিয়ন বছর।

আমাদের সৌরজগতের বয়সকে ধরা হয়েছে প্রায় 4.5*109 বছর এবং এই সময়টাতে আমাদের সৌরজগৎ মাত্র 20 বার গ্যালাক্সির অক্ষকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ ঘুরে এসেছে।

মহাকাশে কিছু ধরনের গ্যালাক্সি দেখা যায় যাদের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই। এই ধরনের গ্যালাক্সিগুলোকে বিষম গ্যালাক্সি বলে। এই ধরনের গ্যালাক্সির আকার যেকোনো ধরনের হতে পারে। মহাবিশ্বে মাত্র 2% গ্যালাক্সি হচ্ছে বিষম গ্যালাক্সি।

ii) রেডিও গ্যালাক্সি

যেসব গ্যালাক্সি বিকিরণ করে তাদেরকে রেডিও গ্যালাক্সি বলে। রেডিও গ্যালাক্সি দুই প্রকার-

সাধারণ গ্যালাক্সির দুই পাশে যদি প্রচুর পরিমাণ রেডিও তরঙ্গ উৎস থাকে তবে সেই ধরনের গ্যালাক্সি গুলোকে সাধারণ রেডিও গ্যালাক্সি বলে। দুই পাশের রেডিও তরঙ্গকে অনেকটা মানুষের কানের সাথে তুলনা করা যায়, অর্থাৎ যদি সাধারন গ্যালাক্সির দুই পাশে কানের মতো দেখতে রেডিও ওয়েব না থাকে তবে সেটা সাধারণ গ্যালাক্সি হিসেবে মহাকাশে বিচরণ করে।

এই ধরনের গ্যালাক্সি সাধারণত 10 MHz থেকে 100 GHz ফ্রিকোয়েন্সি এর electromagnetic radiation নিঃসরণ করতে পারে। এছাড়া এদের Radio Luminosity হচ্ছে 1038. Radio Luminosity হলো একটা গ্যালাক্সি কি পরিমান উজ্জলতার সাথে রেডিও ওয়েব নিঃসরণ করে সেটার পরিমাণ।

কোয়াসার এক ধরনের রেডিও গ্যালাক্সি যারা নক্ষত্র হতে চায় কিন্তু পুরোপুরি নক্ষত্র হতে পারেনা। তাই এদেরকে আধা নাক্ষত্রিক বলা হয়। এটির গঠন ঠিক নক্ষত্রের মতোই এবং এটি শক্তিশালী বেতার তরঙ্গ নিঃসরণ করতে পারে। এটির রেডিও বিকিরণ নিঃসরণের পাল্লা হচ্ছে 1037 থেকে 1038 W পর্যন্ত। এসব নক্ষত্রগুলো মহাবিশ্বের একদম প্রান্তের দিকে বা বর্ডারে অবস্থান করে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এরা পৃথিবী থেকে 0.9c বেগে সরে যাচ্ছে, অর্থাৎ এরা প্রচন্ড গতিতে পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool

অতিথি লেখক হিসেবে আমাদেরকে আপনার লেখা পাঠাতে চাইলে মেইল করুন-

write@thecrushschool.com

Emtiaz Khan

A person who believes in simplicity. He encourages the people for smart education. He loves to write, design, teach & research about unknown information.