মহাজাগতিক বস্তু : নীহারিকা

মহাকাশে অনেক ধরনের গ্যাস বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। এই গ্যাসগুলোর মাঝে মধ্যাকর্ষণ শক্তি কাজ করে। মধ্যাকর্ষণ শক্তির জন্য গ্যাসগুলো জোট বেঁধে একত্রে সংকুচিত হওয়া শুরু করে। এই ঘটনাকে মহাকর্ষীয় সংকোচন বলে। এটির ফলে নীহারিকা তৈরি হয়।

মহাকাশে টেলিস্কোপ এর মাধ্যমে কিছু কিছু জায়গায় আলোর পিণ্ড দেখতে পাওয়া যায়। এই আলোর সবগুলো পিণ্ড হচ্ছে নক্ষত্র তৈরীর ঠিক আগের অবস্থা। এদেরকে গ্যাসপিণ্ড আকারে মহাকাশে দেখা যায়।

কাজেই নক্ষত্র তৈরি হবার ঠিক আগের অবস্থাই হচ্ছে নীহারিকা। নীহারিকা তৈরি হয় আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকর্ষীয় সংকোচন দ্বারা।

নীহারিকা থেকে আলো বিচ্ছুরিত হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। যদি নীহারিকা থেকে আলো বিচ্ছুরিত হয় তবে সেই নীহারিকাগুলোকে দেখতে উজ্জ্বল দেখাবে। কিন্তু নীহারিকা থেকে যদি কোনো আলো বিচ্ছুরিত না হয় তবে সেই নীহারিকাগুলোকে কালো বর্ণের দেখাবে।

নীহারিকা থেকে যদি 1.4M0 এর বেশি ভরের নক্ষত্র তৈরি হয় তবে সেসব নক্ষত্রকে গুরুভার নক্ষত্র বলে। গুরুভার নক্ষত্র তৈরি করার জন্য দুই ধরনের নীহারিকা মহাকাশে দেখা যায়, এরা হচ্ছে-

নীহারিকা একত্রে জমাট বেঁধে যেমন নক্ষত্র তৈরি করে, ঠিক তেমনি নক্ষত্র ধ্বংস হবার পর তার ধ্বংসাবশেষ থেকেও নতুন করে নীহারিকা জন্ম নিতে পারে। যেমন সুপারনোভা বিস্ফোরণের পরেও চিনা জ্যোতির্বিদরা আকাশে নেবুলার উপস্থিতি দেখতে পেয়েছেন। তারা দেখতে পান যে এই নেবুলাটি এতই উজ্জল ছিলো যে, এটিকে দিনের আকাশে সূর্যের আলোর মধ্যে দেখা গিয়েছিলো। তারা যে নেবুলাকে দেখতে পেয়েছিলো সেটির নাম হচ্ছে ক্র্যাব নেবুলা (Crab Nebula)

ক্র্যাব নেবুলার কেন্দ্রে একটি Neutron Star বা নিউট্রন নক্ষত্র থাকে। তাহলে বলা যায়, নিউট্রন স্টার হচ্ছে ক্র্যাব নেবুলার একটা অংশ। Crab শব্দের অর্থ হচ্ছে কাঁকড়া। এই ধরনের নেবুলাকে দেখতে কাকড়ার মত দেখায় বলে এদের নাম ক্র্যাব নেবুলা।

ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool

অতিথি লেখক হিসেবে আমাদেরকে আপনার লেখা পাঠাতে চাইলে মেইল করুন-

write@thecrushschool.com