নক্ষত্রের মৃত্যু (Death of Star)

একটা নক্ষত্র কত দিন টিকে থাকতে পারে সেটা নির্ভর করে নক্ষত্রটির ভরের উপর। যেসব নক্ষত্রের ভর কম তারা মহাকাশে অনেকদিন টিকে থাকতে পারে। কিন্তু যেসব নক্ষত্রের ভর অনেক বেশি তারা খুব কম দিন মহাকাশে টিকে থাকতে পারে। সেসব নক্ষত্রের মৃত্যু হয়। একটা গাড়ির উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা আরো পরিষ্কার হবে।

যেসব গাড়ি ছোট আকৃতির তাদের ইঞ্জিনও অনেক ছোট হয়। ফলে সেই গাড়ি খুব ধীরে ধীরে তার জ্বালানি শেষ করে এবং সেই সময় সে অনেক দূর যাত্রা করতে পারে। কিন্তু একটা বড় গাড়ির ইঞ্জিন অনেক বড় হওয়াতে সেটি খুব দ্রুত তার জ্বালানি শেষ করতে পারে। ফলে সেই গাড়িটি বেশিদূর যাত্রা করতে পারে না। নক্ষত্রের ক্ষেত্রেও এই ব্যাপারটা খাটে। বড় নক্ষত্র তাড়াতাড়ি তার জ্বালানী শেষ করে বলে তার জীবনকালও কম সময় পর্যন্ত থাকে।

যেসব নক্ষত্রের ভর আমাদের সূর্যের ভরের চেয়ে কম তারা খুব ধীর গতিতে তাদের জ্বালানি খরচ করে এবং প্রায় 200 বিলিয়ন বছর পর্যন্ত তারা মহাকাশে টিকে থাকে। যেসব নক্ষত্রের ভর সূর্যের কাছাকাছি তারা প্রায় 10 বিলিয়ন বছর টিকে থাকতে পারে। জ্যোতির্বিদরা মনে করেন আমাদের সূর্য প্রায় 4.6 বিলিয়ন বছরের পুরনো। তাই আমাদের সূর্য ইতোমধ্যে তার জীবনের অর্ধেক সমযটা এখন পার করছে।

যেসব নক্ষত্রের ভর সূর্যের চেয়েও অনেক বেশি তারা মহাকাশে কম সময় ধরে টিকে থাকে। যেমন যেসব নক্ষত্রের ভর সূর্যের থেকে 15 গুণ বেশি তারা মহাকাশে মাত্র 10 মিলিয়ন বছর টিকে থাকতে পারে।

একটা নক্ষত্রের ভেতরে অনেক পরিমাণ হাইড্রোজেন জ্বালানি থাকে কিন্তু কখনোই কোনো নক্ষত্রের ভেতরে অসীম পরিমাণে হাইড্রোজেন জ্বালানি থাকে না। তাই একটা না একটা সময় নক্ষত্রের সকল হাইড্রোজেন জ্বালানি শেষ হয়ে যেতে পারে। তোমাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যখন নক্ষত্রের হাইড্রোজেন জ্বালানি শেষ হয়ে যায় তখন নক্ষত্রের কি অবস্থা ঘটে?

তোমরা এতক্ষণে জেনেছ যে নক্ষত্রের একদম কেন্দ্রকে কোর (Core) বলে। যখন নক্ষত্রে হাইড্রোজেন জ্বালানি থাকে তখন সেই কোরটি প্রসারিত হতে থাকে। কিন্তু যখন নক্ষত্রের হাইড্রোজেন জ্বালানি একদম শেষ হয়ে যাবে তখন কোর আর সম্প্রসারিত হবে না, সে সংকুচিত হতে থাকবে। অর্থাৎ কোরের আয়তন কমে যেতে শুরু করবে। কিন্তু একটা সম্পূর্ণ নক্ষত্রে কোর বাদেও এর বাইরে আরো অনেকগুলো অংশ থাকে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, সংকুচিত হবার সময় কোরের বাইরের সেসব জায়গা গুলো সংকুচিত হয় না, তারা কোর সংকুচিত হবার শুরুর দিকে আগের মতই সম্প্রসারিত হতে থাকে। অর্থাৎ-

নক্ষত্রের হাইড্রোজেন জ্বালানি শেষ হবার সাথে সাথেই নক্ষত্রের কোর ছোট হতে থাকে কিন্তু কোরের বাইরের অংশগুলো সম্প্রসারিত হতে থাকে।

এর একটা কারনও আছে! কোরের বাইরের অংশ গুলোর কাজ হচ্ছে কোর থেকে যে রেডিয়েশন বের হয় সেটিকে মহাকাশে ছড়িয়ে দেয়া, অর্থাৎ তারা রেডিয়েশন এর বাহক বা ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করে। হাইড্রোজেন জ্বালানি শেষ হবার পরেও কোরের বাইরের অংশগুলো কোর থেকে নেওয়া এনার্জি বা বিকিরণ মহাকাশে ছড়াতে থাকে। যদি কোর সংকুচিত হবার সাথে সাথে কোরের বাইরের অংশগুলো সংকুচিত হওয়া শুরু করতো তবে কোর থেকে পাওয়া বিপুল পরিমাণ এনার্জি কোরের বাইরের অংশগুলো বিকিরণ করতে পারত না। ফলে অনেক বড় পরিমাণ শক্তি বা এনার্জি নক্ষত্রের মধ্যে আটকা পড়ে যেত। তখন নক্ষত্রের unstable অবস্থা তৈরি হতো। সেজন্য কোর ছোট হবার সাথে সাথেই কোরের বাইরের অংশ গুলো কখনোই ছোট হয় না, বরং তারা সম্প্রসারিত হতে থাকে এবং কোর থেকে পাওয়া এনার্জি গুলোকে বিকিরণ হিসেবে মহাকাশে ছড়িয়ে দেয়।

যেহেতু হাইড্রোজেন জ্বালানি শেষ হবার পর কোরের বাইরের অংশ গুলো সম্প্রসারিত হতে থাকে সেজন্য নক্ষত্রের ব্যাসার্ধ বাড়তে থাকে এবং নক্ষত্রের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা কমে যেতে থাকে।

যেহেতু কোর কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে এবং সংকুচিত হচ্ছে সেজন্য নক্ষত্রের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা কমে যেতে থাকে। ঠিক এই এই ঘটনাগুলো ঘটে একটা নক্ষত্রকে ঘিরে যখন তার হাইড্রোজেন জ্বালানি সম্পূর্ণ ভাবে শেষ হয়ে যায়।

কোরের বাইরের অংশগুলো সম্প্রসারিত হওয়া অবস্থায় নক্ষত্রটি একটা দানবীয় আকার ধারণ করে, কেননা তার সাইজ অনেক বড় হয়ে যায়। এই ধরনের নক্ষত্রকে তখন দানব নক্ষত্র বা Giant Star বলে।

ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool

অতিথি লেখক হিসেবে আমাদেরকে আপনার লেখা পাঠাতে চাইলে মেইল করুন-

write@thecrushschool.com