ইথারের ধারনার বিদায় – Departure of Ether’s Concept

আমাদের মহাবিশ্বে যেদিকে তাকাই না কেনো অনেক কিছুই দেখতে পাই আমরা। বলতে গেলে আমাদের মহাবিশ্বে এমন কোনো জায়গা নেই যে সেটা শূন্যস্থান। শূন্যস্থান কথাটার মানে হচ্ছে এমন একটা জায়গা যেখানে কিছুই নেই। এমন জায়গা কল্পনা করা সত্যি খুব কষ্টের। কারন আমাদের পৃথিবীতে এরকম শূন্যস্থান খুঁজে পাওয়া দায়! এই পৃথিবীতে যেখানে কিছুই নেই বলা হয় সেখানে বাতাস আছে। বাতাসে অক্সিজেন, আর্গন, কিছু হিলিয়াম, সামান্য কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস থাকে। তাই বলা যায় এই পৃথিবীতে শূন্যস্থানের বড়ই অভাব।

বিখ্যাত গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটলকে সবাই চিনি আমরা। তিনি বলেন আমাদের প্রকৃতি সবসময় শূন্যস্থানের বিরোধীতা করে। কোথাও শূন্যস্থান থাকলে সেখানে বিভিন্ন পদার্থ ঢুকে যায়। খুব সহজ একটা উদাহরণ যদি দেই তবে বোঝা যাবে। আমরা জুস কিংবা কোকাকোলা খাবার সময় ছোট পাইপ ব্যবহার করি। এখন আমরা যদি পাইপের ভেতরটা শূন্যস্থান রাখতে চাই তবে মুখ দিয়ে তার ভেতরের বাতাসকে টান দিলেই কিন্তু হয়ে যায়! তবে সমস্যা হলো পাইপের অপর প্রান্ত দিয়ে বাইরের থেকে আরো বাতাস ঢুকবে। তখন পাইপের ভেতরটা আর শূন্যস্থান থাকতে পারবে না।

আরেকটা উদাহরণ দেয়াই যায়। ধরা যাক আমরা একটা বড় কাঁচনলের (সচ্ছ হতে হবে) ভেতরের সব বাতাসকে পাম্প করে বের করে দিলাম। কাচনলে মাত্র একটা মুখ, আর বাতাস বের করার পর সেই মুখটা আটকিয়ে দিলাম। তাহলে আমাদের কাচনলের ভেতরটা এখন শূন্যস্থান! কিন্তু এখানেও একটা সমস্যা আছে। শূন্যস্থান মানে সেখান দিয়ে কিছু যেতে পারবে না, সেখানে কিছু থাকতেও পারবে না। একটা আলোকরশ্মিকে যদি কাচনলের ভেতরে ফেলি তবে সেটা কাচনলকে ভেদ করে চলে যাবে, কারন আগেই বলেছি কাচটা সচ্ছ।

শূন্যস্থানের ধারনাটা এখানে অচল। আলোর কখনো শূন্যস্থান দিয়ে চলাচল করার কথা না। কিন্তু দিব্যি সে চলাচল করতে পারছে। মহাশূন্যেও বাতাস নেই, অর্থাৎ আমাদের চিন্তা অনুযায়ী মহাশূন্য বা মহাকাশ একটা শূন্যস্থান। কিন্তু তারকাদের আলো, সূর্যের আলোও কিন্তু এই শূন্যস্থান দিয়ে পৃথিবীতে আসছে!

এ থেকে বোঝা যায়, আমরা যেসব জায়গাকে শূণ্য বলি সেগুলো আসলে শূণ্য না। আলোকে তরঙ্গ হিসেবে ধরে নিলে সেটার একটা মাধ্যম লাগবে। বিজ্ঞানীরা মনে করতেন আমাদের মহাবিশ্ব একটা অদৃশ্য মাধ্যমে ঢুবে রয়েছে। তারা এর নাম দিলেন লুমেনিফেরাস ইথার। কিন্তু ইথারের অস্তিত্ব আদৌ আছে কিনা সেটা নিয়ে প্রচুর সন্দেহ ছিলো বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের মনে। তাই ইথারের অস্তিত্ব প্রমাণ ছাড়া কিছুতেই বলা যাবে না যে আলো তরঙ্গধর্মী। বিজ্ঞানীরা উঠেপড়ে লাগলো অদৃশ্য ইথারকে ধরার জন্য। অবশেষে মাইকেলসন এবং মর্লি নামক দুজন বিজ্ঞানী শুধুমাত্র আমাদের চেহারা দেখার আয়না ব্যবহার করে বের করে ফেললেন এই মহাবিশ্বে ইথার বলে আসলে কিছু নেই!


ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool

অথিতি লেখক হিসেবে আমাদেরকে আপনার লেখা পাঠাতে চাইলে মেইল করুন-

write@thecrushschool.com

Emtiaz Khan

Emtiaz Khan is a person who believes in simplicity. He encourages the people for smart education. He loves to write, research about new information. Currently he is studying at the department of EEE.

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published.