বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস (Different types of Viruses)

টোব্যাকো মোজাইক ভাইরাস বা TMV (Tobacco Mosaic Virus)

এটি দণ্ডাকৃতির ভাইরাস। এটির দৈর্ঘ্য প্রস্থের প্রায় ১৭ গুণ। TMV-এর দৈর্ঘ্য ২৮onm (কারো মতে ৩০০nm) এবং প্রস্থ ১৫nm (কারো মতে ১৮mm)। RNA এবং প্রোটিন আবরণ দিয়ে TMV গঠিত। এর বাইরে একটি পুরু প্রোটিন আবরণ আছে এবং ভেতরে একসূত্রক RNA কোর (core) আছে। ওজন হিসেবে এর শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগই প্রোটিন।

 

T2 ব্যাকটেরিওফায (T2 Bacteriophage)

ফায বা Phage একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ হল ‘to eat’ বা ভক্ষণ করা। প্রকৃত অর্থে ফায হল ঐ সব ভাইরাস যারা জীবদেহে অবস্থিত রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়। ফায-এর জেনেটিক বস্তু ব্যাকটেরিয়ার দেহে প্রবেশ করে এবং একসময় ব্যাকটেরিয়া কোষটি ফেটে ধ্বংস হয়ে যায়। যে সমস্ত ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে তথা ব্যাকটেরিয়ার দেহের ভেতরে বাস করে এবং ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে তাদেরকে ব্যাকটেরিওফায বলে। ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী দ্য হেরেলি (d’ Herelle) এ ভাইরাসকে ব্যাকটেরিওফায বা ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস বা ফায নামে নামকরণ করেন।

এটি একটি সর্বাধিক পরিচিত ভাইরাস। এর গঠন সম্মন্ধেও অপেক্ষাকৃত ভালভাবে জানা গেছে। T2 ভাইরাসের দেহকে দুটি প্রধান অংশে ভাগ করা যায়- মাথা এবং লেজ। মাথাটি বড় ও ষড়ভুজাকৃতির এবং প্রোটিন অণু দিয়ে তৈরি। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৩০m এবং প্রস্থ ৬৫nm। থলি আকৃতির এ স্ফীত অংশের ভেতরে রিং আকৃতির দ্বি-সূত্রক একটি DNA অণু প্যাঁচানো অবস্থায় থাকে। এতে প্রায় ১৫০টি জীন থাকে। মাথার অধিকাংশ স্থানই ফাঁপা বলে ধরা হয়। লেজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০nm এবং ব্যাস প্রায় ২৫nm। লেজের উপরের দিকে সুস্পষ্ট চাকতির মত একটি কলার আছে এবং লেজের প্রধান অংশটি একটি ফাঁপা নলের মত। এর ভেতরে কোন DNA নেই। নিচের দিকে বেসপ্লেট, কাঁটার মত স্পাইক এবং ছয়টি স্পর্শক তন্তু আছে। লেজ, কলার, বেসপ্লেট, স্পাইক এবং স্পর্শক তন্তু সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। এতে নিউক্লিয়াস, কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম, কোষ প্রাচীর ও অন্যান্য ক্ষুদ্র অঙ্গাণু ইত্যাদি নেই।

 

HIV (Human Immunodeficiency Virus)

HIV মানব দেহের শ্বেতরক্ত কণিকার ম্যাক্রোফায এবং T-cell লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে। এর ফলে দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা একবারেই নষ্ট হয়ে যায় এবং দেহ বিভিন্ন রোগ-জীবাণু দিয়ে সহজেই আক্রান্ত হয়। মানুষের মরণব্যাধি AIDS (Acquired Immune Deficiency Syndrome) এর কারণ হল HIV। ১৯৮১ সালে সর্বপ্রথম AIDS রোগ শনাক্ত করা হয়।

HIV এর গঠন গোলাকার। এর বাইরে লিপিড বাইলেয়ার দিয়ে গঠিত একটি আবরণ আছে যাতে অনেকগুলো গ্লাইকোপ্রোটিন থাকে। GP 120 এবং GP41 হল দু’প্রকার গ্লাইকোপ্রোটিন যা ভাইরাসের আক্রমণ করার সময় মানুষের কোষের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। HIV এর গ্লাইকোপ্রোটিন GP 120 মানুষের কোষের মেমব্রেন প্রোটিন ‘CD4’ এর সাথে সংযুক্ত (fusion) হয়। HIV এর ক্যাপসিড (প্রোটিন আররণ) আবরণ থাকে। এর ভেতরে এক সূত্রক RNA এবং রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেজ আছে। এই রিজার্ড ট্রান্সক্রিপ্টেজ RNA হতে DNA ট্রান্সফরমেশন বা রূপান্তরকে নিয়ন্ত্রণ করে।

পড়াশোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শত শত ভিডিও ক্লাস বিনামূল্যে করতে জয়েন করুন আমাদের Youtube চ্যানেলে-

www.youtube.com/crushschool

ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published.