এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম (Endroplasmic Reticulum – ER)

একটা কোষের সাইটোপ্লাজমে যে নিউক্লিয়াসটা বসে থাকে তার খুব কাছেই একটা কোষীয় অঙ্গাণুর অংশ গুলো একটার পর একটা জালের মত লেগে থাকে। এই অঙ্গাণুকে এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম বা সংক্ষেপে ER বলে। নিউক্লিয়ার মেমব্রেন বা নিউক্লিয়ার এনভেলপের গা ঘেঁষে থাকে এটা। এরা একটার পর একটা সিরিজ আকারে থাকে।

এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম

ER এর বাইরের দিকে পর্দাটা থাকে যেটা ফসফোলিপিড দিয়ে তৈরি। এই ফসফোলিপিডে দুটো Layer থাকে। তাই এই লেয়ারকে ফসফোলিপিড বাই লেয়ার বলে। বাই কথাটার মানে হচ্ছে দুইটি বা double. দ্বিস্তরী ফসফোলিপিড লেয়ারের ঠিক মাঝের জায়গাটা ফাঁকা। এই জায়গাকে Lumen বলে। Lumen অর্থ হচ্ছে ফাঁকা জায়গা।

ER এর মধ্যে প্রোটিন সিনথেসিস ঘটে। কেননা ER এর তলে বা পৃষ্টে (কিংবা Surface) Ribosome থাকে। আর Ribosome এর মধ্যে প্রোটিন তৈরি হয়। প্রতিনিয়ত প্রোটিন তৈরি হবার ফলে প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন ER এর ভেতরে ঢুকে যায়। এসব চেইন ER এর ভেতর ঢুকে একটা পথ ধরে চলতে শুরু করে যাকে ER Lumen বলে।

ER Lumen এর ভেতরে অনেক ধরনের এনজাইম থাকে। Ribosome থেকে প্রোটিন গুলো Protein Receptor (প্রোটিন রিসিপ্টর) এর মাধ্যমে ER Lumen পথ ধরে ঢুকে বলে এই এনজাইম গুলো প্রোটিনকে Synthesis করে। প্রোটিনকে synthesis করার পর প্রোটিন অনেক উন্নত বা developed হয় বিভিন্ন কাজ করার জন্য। তাই ER প্রতিটা প্রোটিনকে synthesis করে।

এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম

প্রোটিন তৈরি হওয়ার শুরুতে অনেকগুলো Amino Acid এর অনু একে অপরের সাথে পেপটাইড বন্ধন দিয়ে লেগে থাকে। প্রোটিনের এই ধরনের structure হচ্ছে Primary Structure.

কিন্তু প্রোটিন যখন ER এর ভেতরে ঢোকে তখন তার বিভিন্ন chemical modification (রাসায়নিক পরিবর্তন) হয় এবং সেটি Secondary, Tertiary ও কোয়ার্টনারী প্রোটিনে পরিনত হয়।

দুই ধরনের ER কে কোষে দেখা যায়। এগুলো হলো-


i. Rough ER (RER) বা অমসৃণ ER

Ribosome যখন ER এর পৃষ্টে বসে থাকে তখন ER এর এই অবস্থাকে অমসৃণ ER বা Rough ER বলে। কারন তখন ER গুলোকে দেখতে দানাদার মনে হয়। ER এর ভেতরে অনেক বেশি surface area (পৃষ্টের ক্ষেত্রফল) থাকে বলে অনেক বেশি Ribosome সেখানে থাকতে পারে। Ribosome থাকার ফলে শুধুমাত্র RER প্রোটিনকে modification করতে পারে। Modification করা মানে প্রোটিনের সাথে ফসফেট কিংবা গ্লুকোজ যুক্ত করা। RER একটার সাথে আরেকটা শাখা হিসেবে জোড়া থাকে বলে এদেরকে শাখান্বিত ER বা Branched ER বলে।

ii. Smooth ER (SER) বা মসৃণ ER

যখন ER এর পৃষ্টে কোনো Ribosome থাকে না তখন তাদেরকে মসৃণ ER বা Smooth ER বলে। এদের মধ্যে কোনো Ribosome থাকে না বলে SER কখনো প্রোটিনকে modification করতে পারেনা। SER ফসফোলিপিড, স্টেরয়েড তৈরির জন্য কাজ করে। এছাড়া কোষের বেশিরভাগ ক্যালসিয়াম এই ER-এর মধ্যে সংরক্ষিত করা থাকে। এই ধরনের ER এর কোনো শাখা থাকে না। তাই এদেরকে অশাখ বা unbranched ER বলে।

SER এর ভেতরে ফ্যাট বা স্নেহ জাতীয় খাদ্যকে ভেঙ্গে ফেলার এনজাইম থাকে। তাই এর ভেতর প্রোটিনের সাথে ফ্যাট যুক্ত হয়।

তাহলে ER এর টোটাল সিকুয়েন্স হচ্ছে-

নিউক্লিয়াস থেকে mRNA বের হয়ে Ribosome এর মাধ্যমে প্রোটিন তৈরি করে, সেই প্রোটিন প্রথমে RER এর ভেতরে ঢুকে modified হয়, তারপর SER এর ভেতরে ঢুকে ফ্যাট বা চর্বির সাথে যুক্ত হয়।


ক্রাশ স্কুলের Youtube চ্যানেলের জয়েন করুন-

www.youtube.com/crushschool

অথিতি লেখক হিসেবে আমাদেরকে আপনার লেখা পাঠাতে চাইলে মেইল করুন-

write@thecrushschool.com

Emtiaz Khan

Emtiaz Khan is a person who believes in simplicity. He encourages the people for smart education. He loves to write, research about new information. Currently he is studying at the department of EEE.

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published.