আবহাওয়াবিদ্যার ইতিহাস – History of Meteorology

Meteorology বা আবহাওয়াবিদ্যা হচ্ছে অনেক পুরোনো observational science যেটি মানুষের জীবনে প্রতিটা ক্ষেত্রে জানার দরকার পড়ে। প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের সমাজে কৃষক, মেষপালক, নাবিকদের জন্য meteorology নিয়ে জানাটা অত্যাবশ্যক ছিলো। কেননা তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম সব আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে। যেমন কৃষক যদি আবহাওয়া নিয়ে ঠিকমত না জানতো তবে সে বছরের ভুল সময় গুলোতে শস্য পালন করতো, ফলে অতিরিক্ত রোদ কিংবা অতিরিক্ত বৃষ্টির সিজনে তাদের শস্য গুলো নষ্ট হয়ে যেতো। আবার নাবিক যদি না জানে যে কখন সমুদ্রের ঝড় আসে কিংবা কখন সমুদ্র শান্ত থাকে, তবে সে জাহাজ নিয়ে মাঝ সমুদ্রে বিপদে পড়বে।

প্রাচীনকালের কিছু weather observation ছিলো ঠিক এমন-

  • রাতের আকাশ লাল থাকলে মেষপালকেরা এতে বিপদমুক্ত থাকতো
  • সকালে আকাশের রঙ লাল থাকলে মেষপালকেরা সতর্ক থাকতো
  • দুটো হাড্ডির সংযোগস্থলে ব্যথা থাকলে সেটা আবহাওয়া পরিবর্তনকে নির্দেশ করতো
  • সকালে ঘাসের উপর কম শিশির পড়লে আবহাওয়া পরিবর্তনের লক্ষণ হিসেবে সেটা ধরা হতো
  • চাঁদের চারপাশে বৃত্তাকার অবয়ব দেখা গেলে সেটাকে দ্রুত বৃষ্টি হবে বলে ধরা হতো

এভাবে আরো অনেক বিভিন্ন ধরনের মতবাদ ছিলো আবহাওয়াকে নিয়ে। তবে এই সমস্থ অনুমানগুলোর কিছু কিছু সায়েন্টিফিকভাবে প্রমাণিত কিন্তু বাকিগুলোর কোনো প্রমাণ নেই।

সর্বপ্রথম ব্যবিলন জাতিরা লিখে রেখেছিলো আকাশে ধূসর ও কালো মেঘ দেখা গেলে বাতাস প্রবাহ শুরু হবে। ৩০০০ বছর আগে আবহাওয়া নিয়ে কিছু জিনিসের অস্তিত্ব পাওয়া যায় হিন্দু ধর্মগ্রন্থ উপনিষদে, যেখানে লেখা ছিলো কিভাবে মেঘ তৈরি হয় এবং কিভাবে season change হয় পৃথিবীতে। অর্থাৎ এতে hydrological cycle নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিলো। 350 BC তে এরিস্টটল একটি থিসিস লিখেছিলো যার নাম ছিলো Meteorological যেটিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল বা atmosphere সম্পর্কে লিখা ছিলো। ১০০০ সালে আবর বিজ্ঞানী ইবনে আল হাইয়াম প্রথম লেন্স নিয়ে গবেষণা করেন এবং বের করেন কিভাবে আমাদের atmosphere এর মধ্যে সূর্যের আলোর Reflection হচ্ছে। এছাড়া তিনি সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তর সময় সূর্যের রঙের পরিবর্তনের কারন বের করেন। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের মানুষেরা প্রাচীনকালে বিভিন্ন প্রাকৃতিক জিনিস যেমন ঝড়বৃষ্টি, কালোমেঘ, রঙধনু, তুষার, কুয়াশা ইত্যাদি নিয়ে পর্যবেক্ষণ করতো। তারা আবহাওয়া নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী শুরু করে আকাশের তারা, চাঁদ, সূর্য এবং মেঘ ইত্যাদি দেখে।

১৪৪১ সালের আগ পর্যন্ত প্রাচীনকালে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য তেমন কোনো instrument আবিষ্কার হয়নি। ১৪৪১ সালে কোরিয়ান রাজপুত্র একটি যন্ত্র তৈরি করেন বৃষ্টির পরিমান মাপার জন্য যাকে Rain Gauge বলে। এর ঠিক ৫০ বছর পর ক্রিস্টোফার কলম্বাস সর্বপ্রথম হ্যারিকেনের পরিমাপ করেন এবং এটিকে রেকর্ড করে রাখেন। ১৬০৭ সালে গ্যালিলিও গ্যালিলি প্রথম থার্মোমিটার তৈরি করেন।

পরে তার ছাত্র টরেসিলি বাতাসের চাপ পরিমাপক যন্ত্র ব্যারোমিটার আবিষ্কার করেন। রবার্ট বয়েল গ্যাসের সূত্র আবিষ্কার করেন এবং রবার্ট হুক বাতাসের গতি ও দিক পরিমাপক যন্ত্র Anemometer আবিষ্কার করেন। জ্যাক চার্লস হাইড্রোজেন বেলুনের মাধ্যমে বাতাসের উচ্চতার পরিবর্তনের সাথে সাথে যে তাপমাত্রার পরিবর্তন হয় সেটা বের করেন।

সপ্তদশ শতাব্দীতে আবহাওয়া পরিমাপ করার জন্য আরো অনেক ধরনের আধুনিক instrument তৈরি হয়। অষ্টাদশ শতাব্দীতে সরকার কর্তৃক আবহাওয়া পরিমাপ করার জন্য নির্দেশনা চালু হয়। Modern Meteorology এর যাত্রা শুরু হয় ১৮০০ সাল থেকেই। লুকেহওয়ার্ড নামক ভদ্রলোক আকাশের মেঘগুলো নিয়ে গবেষণা করেন এবং তাদের শ্রেণিবিন্যাস করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাডারকে ব্যবহার করা হতো শত্রুবিমানের অবস্থান জানার জন্য। পরবর্তিতে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানার জন্য এটিকে ব্যবহার করা হয়। তবে কম্পিউটার আবিষ্কার হবার পর আবহাওয়া নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা অনেক গুন সহজ হয়ে যায়। এখনকার সময় সব ধরনের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি আবহাওয়ার পূর্বাভাস বা weather prediction করার অনেক সহজ হয়ে যায়।

ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool

অতিথি লেখক হিসেবে আমাদেরকে আপনার লেখা পাঠাতে চাইলে মেইল করুন-

write@thecrushschool.com

Emtiaz Khan

A person who believes in simplicity. He encourages the people for smart education. He loves to write, design, teach & research about unknown information.

Facebook Comments