মিউটেশন কিভাবে ঘটে?

মিউটেশন নিয়ে একটু ভালোভাবে জানতে হলে আমাদের কয়েকটা জিনিস জানতে হবে। প্রথম জানা যাক DNA কে নিয়ে।

DNA আমাদের শরীরের কোষের ভেতর নিউক্লিয়াসে থাকে। এটি খুবই ছোট একটা জিনিস যেটা আমাদের শরীরের প্রতিটা বৈশিষ্ট্য (যেমন: চিকন, মোটা, ফর্সা, কালো) প্রকাশের জন্য দায়ী। DNA আমাদের বৈশিষ্ট্যগুলোকে কোড হিসেবে ধরে রাখে। যে DNA তোমার বাবা-মায়ের শরীরে ছিলো সেটা তোমার শরীরেও আছে। DNA এর কোড তাদের শরীর থেকে তোমার শরীরে আসে। সেজন্য আমরা সবাই কমবেশি দেখতে বাবা কিংবা মায়ের মত হয়ে থাকি।

তোমরা জানো DNA দুটো সুতা নিয়ে তৈরি। এই সুতো গুলোতে চারটে নাইট্রোজেন ক্ষার একটার পর একটা বসে থাকে। পাশাপাশি দুটো সুতোর দুটো নাইট্রোজেন ক্ষার একে অপরের সাথে হাইড্রোজেন বন্ধন তৈরি করে। এই নাইট্রোজেন ক্ষারগুলোর নামও জানা আছে তোমাদের- এডেনিন (A), গুয়ানিন (B), সাইটোসিন (S), থায়োমিন (T). এরাই আসলে একটা DNA এর কোড। অর্থাৎ আমাদের পুরো আস্ত একটা DNA তে এই চারটা কোড থাকে। এবং এই চারটে কোড দিয়েই আমাদের শরীরের সমস্ত বৈশিষ্ট্য প্রকাশ হয়।

এডেনিন এবং থায়োমিন একে অপরের সাথে জোড়া বাধে, আবার ওদিকে সাইটোসিন এবং গুয়ানিমও একে অপরের সাথে জোড়া বেধে লম্বা দ্বিসূত্রক DNA তৈরি করে। একটা DNA এর দুটো সুতার কোড দেখো নিচে-

যখন আমাদের শরীরে কিংবা অন্যান্য প্রাণির শরীরে কোষ বিভাজন হয় তখন একটা কোষ থেকে দুটো কোষ তৈরি হয়। সেই সময় একটা DNA থেকেও দুটো DNA তৈরি হয় যাকে DNA Replication বলে

ডিএনএ অনুলিপিকরণের সময় DNA ঠিক তার মত করেই দুটো DNA তৈরি করে, ফটোকপি করার মত। নতুন DNA তৈরি হবার পর আগের DNA (যার আরেক নাম parents DNA) এর সাথে সেটার ১০০% মিল থাকে। তবে খুব কম ক্ষেত্রেই parents DNA এর সাথে নতুন DNA এর কিছু কোডে পার্থক্য থাকে। ছবিতে দেখো-

মিউটেশন

এখানে C এর উল্টো দিকে A বসেছে, কিন্তু সেখানে G বসার কথা ছিলো। আর বাদবাকি সব কোড ঠিক আছে। এই ছোট্ট ভুলটা হচ্ছে DNA Replication এর একটা ভুল। এই ভুলটার খুব সুন্দর নাম আছে, যাকে মিউটেশন (Mutation) বলে।

অর্থাৎ,

DNA Replication করার সময় নতুন DNA কোডিং বানাতে যে ভুলটা করে তাকে মিউটেশন বলে।

মিউটেশন হচ্ছে ল্যাটিন ভাষার শব্দ। এর বাংলা মানে হচ্ছে “পরিবর্তন” কিংবা “বিরল ঘটনা”। কোনো জীবের শরীরে নির্দিষ্ট জিনে মিউটেশন খুঁজে পাওয়ার ঘটনা প্রতি লাখে একটা মাত্র! মিউটেশনের ফলে নতুন DNA এর কোডিং পরিবর্তন হয় বলে আমাদের বৈশিষ্ট্যও পরিবর্তন ঘটে। আমাদের বহুল পরিচিত ক্যান্সার রোগটি হয় কোষে মিউটেশন হবার ফলে।

 

মিউটেশন কেনো হয়?

মিউটেশন হয় DNA পলিমারেজ এনজাইমের জন্য। DNA Replication এর সময় এই এনজাইমটা কাজ করে, তাই এটি মিউটেশন ঘটায়।

কোনো জীব জাতিতে সামান্য একটু মিউটেশন হলেই সেই জীবের মধ্যে কিছু বড় বড় পরিবর্তন দেখা যায়। কিন্তু বেশিরভাগ মিউটেশন দুর্বল এবং অস্থায়ী বলে সব জীবের বৈশিষ্ট্য হঠাৎ করেই পরিবর্তন হয়ে যায় না। তবে মিউটেশনের ফলে মাঝেমাঝে এমন কিছু পরিবর্তন ঘটে যেগুলো আমরা বুঝতেও পারি না। যেমন আমাদের নাকের দৈর্ঘ্য ১ মিলিমিটার বেড়ে যায় মিউটেশনের প্রভাবে, কিন্তু আমরা বুঝি না।

যেসব পদার্থের উপস্থিতিতে কোনো DNA তে মিউটেশন বেড়ে যায় তাদেরকে Mutagen বলে। বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতিতেও (যেমন আলফা, বিটা, গামা রশ্মি) মিউটেশন ঘটে। এছাড়া সূর্যের uv light মিউটেশন ঘটাতে পারে।

প্রতিটা সুন্দর কিংবা সুন্দরী মানুষের অন্তত একটা খুঁত থাকে যেটাকে আমরা না ধরে কেবল সৌন্দর্যের কারণে তার সেই খুঁতটাকে মাফ করে দেই। অথচ অন্য মানুষের ক্ষেত্রে সেই খুঁতকে আমরা ইস্যু বানিয়ে তার সাথে বিদ্রোহ শুরু করি!
Emtiaz Khan (Founder | Crush School)

পড়াশোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শত শত ভিডিও ক্লাস বিনামূল্যে করতে জয়েন করুন আমাদের Youtube চ্যানেলে-

www.youtube.com/c/crushschool

ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool