জেনেটিক্সের সূচনা – Introduction of Genetics

আমরা বর্তমানে একটা জিনিস খুব বেশি দেখি যে অনেকের চেহারা তাদের বাবা মায়ের মত হয়। যেমন চোখের রঙ, মুখের অবয়ব কিংবা চুলের রঙ সবকিছুই বাবা মায়ের মত হয়ে থাকে। কিন্তু কয়েকশ বছর আগেও মানুষের কোনো ধারনা ছিলো না কেনো একজন মানুষের চেহারা তার বাবা-মায়ের মত হয়। আবার কিছুক্ষেত্রে বাচ্চারা বাবা মায়ের বৈশিষ্ট্য পায় না, হয়ত দুই-তিনটা জেনারেশন আগে দাদা কিংবা দাদার বাবার বৈশিষ্ট্য পায়। অর্থাৎ মানুষের বৈশিষ্ট্য কয়েক জেনারেশন পরেও repeat করে। কিভাবে একটা প্রাণির বৈশিষ্ট্য সেই প্রাণির বংশধরদের মধ্যে চলে যায় সেটা নিয়ে প্রথম চিন্তা করেন অস্ট্রিয়ার ধর্মযাজক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল।

জেনেটিক্সের সূচনা

মেন্ডেল কিছু এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে বুঝতে পারেন কিভাবে প্রাণিদের মধ্যে থাকা বৈশিষ্ট্যগুলো এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে যায়। বিজ্ঞানের কোনো বিষয় নিয়ে কাজ করার সময় প্রথমে একটা ধারনা বা hypothesis তৈরি করতে হয়। পরে সেই hypothesis এর উপর এক্সপেরিমেন্ট করতে হয়। যদি এক্সপেরিমেন্টের রেজাল্ট ঠিকঠাক হয় তবে hypothesis টা সত্য বলে প্রমানিত হয়। তাই মেন্ডেল কিছু এক্সপেরিমেন্ট করে বোঝার চেষ্টা করে কিভাবে একটা প্রাণি থেকে আরেকটা প্রাণিতে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য চলাচল করে।

মেন্ডেল প্রায় ৭ বছর ধরে মটরশুঁটি গাছ নিয়ে গবেষণা করেন। কারন মটরশুঁটি গাছের লাইফ সাইকেল বা জীবনচক্র অনেক কম হয় এবং গবেষণা করার জন্য উপযুক্ত। তিনি দুটো ভিন্ন রঙের মটরশুঁটি ফুলের মধ্যে ক্রস ঘটান। ক্রস মানে দুটো ফুল থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্ম দেয়ার প্রসেস।

মেন্ডেল গোলাপি এবং সাদা ফুলকে বেছে নেন তার এক্সপেরিমেন্টের জন্য। যেখানে সাদা ফুলটি ছিলো male বা পুরুষ ফুল, গোলাপি ফুলটা ছিলো female বা মেয়ে ফুল। Male এবং female ফুলের ক্রস ঘটালে নতুন বংশধর তৈরি হয় সেখান থেকে। তাই তিনি একটা ব্রাশের মাধ্যমে সাদা ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু (বা stamen) কে নিয়ে গোলাপি ফুলের গর্ভমুন্ডে বসিয়ে দেন। ফলে stamen গুলো গর্ভমুন্ড ভেদ করে গর্ভাশয়ে পৌছায় এবং নিষেক (Fertilization) সৃষ্টি করে।

জেনেটিক্সের সূচনা

নিষেকের ফলে সেই গোলাপি ফুলে ফল এবং বীজ তৈরি হয়। বীজ থেকে যখন নতুন গাছ তৈরি হয় তখন সেই গাছটিই হচ্ছে সাদা ও গোলাপী ফুল দুটোর বংশধর। তাহলে সাদা ও গোলাপি ফুল হচ্ছে 1st generation বা Parental Generation (P) এবং তাদের থেকে তৈরি হওয়া গাছটি হচ্ছে 2nd generation বা f1 Generation. যদি P এর বীজ থেকে তৈরি হওয়া f1 গাছের ফুলগুলোর মধ্যে আবার যদি ক্রস ঘটানো হয় তবে আবার নতুন বীজ তৈরি হবে এবং বীজ থেকে আরেকটা জেনারেশন তৈরি হবে, যাবে f2 Generation বলা হয়।

মেন্ডেল খেয়াল করেন P এবং f1 জেনারেশনের গাছগুলোতে যেমন মিল আছে, ঠিক তেমনি P এবং f2 জেনারেশনের গাছগুলোতেও মিল আছে। অর্থাৎ কিছু একটা P এর বৈশিষ্ট্যগুলোকে f1 এবং f2 জেনারেশনে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

এখন আমরা জেনেটিক্সের কিছু টার্ম বা vocabulary নিয়ে জানবো।

এর মানে হচ্ছে প্রাণির নির্দিষ্ট একটা বৈশিষ্ট্য, যেমন ফুলের রঙ, চোখের রঙ, চুলের ধরন এগুলো হচ্ছে একটা প্রাণির character.

এটি হচ্ছে প্রাণির নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের ধরন। অর্থাৎ প্রাণির বৈশিষ্ট্যটা কেমন সেটা বোঝানো হয় trait টার্মটি দিয়ে। যেমন লাল রঙের ফুল, সবুজ রঙের চোখ, কোকড়ানো টাইপের চুল ইত্যাদি।

আবার খেয়াল করো কোনো বীজের সাইজ কথাটা হচ্ছে সেই বীজের character, কিন্তু বীজের সাইজ গোল নাকি চ্যাপ্টা সেটা হচ্ছে সেই বীজের Trait.

এখন আসি মেন্ডেল তার এক্সপেরিমেন্ট থেকে কি রেজাল্ট পেয়েছিলো। মেন্ডেল গোলাপি এবং সাদা ফুলের ক্রস করার পর যে বীজ পেয়েছিলো সেই বীজের উদ্ভিদে (f1 জেনারেশন) সব ফুলগুলো ছিলো গোলাপি রঙের। অর্থাৎ সাদা রঙের ফুল সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে f1 জেনারেশনে। তাহলে f1 জেনারেশনে ফুলের একটা trait (সাদা রঙ) উধাও হয়ে গেছে।

এবার মেন্ডেল আরেক কাজ করলেন। তিনি f1 জেনারেশনে যেসব গোলাপি ফুল ছিলো তাদের মধ্যে দুজনের ক্রস ঘটালেন। অর্থাৎ দুটো গোলাপি রঙের ফুলের মধ্যে ক্রস ঘটান তিনি। ফলে তাদের বীজ থেকে যে গাছ (f2 জেনারেশন) তৈরি হয় সেই গাছের ফুলগুলোর মধ্যে তিনি মজার একটা combination পান। তিনি সেই গাছে ৩ ভাগ ফুল পান গোলাপি রঙের এবং ১ ভাগ ফুল পান সাদা রঙের। অর্থাৎ 3 : 1 অনুপাতে f2 জেনারেশনে ফুল তৈরি হয়েছে।

তিনি বারবার একই পরিক্ষা করতে থাকেন এবং বারবার একই ধরনের অনুপাত পান f2 জেনারেশনে। যাদের মধ্যে গোলাপি রঙের ফুল ৭৫% এবং সাদা রঙের ফুল 25%.

মেন্ডেল শুধুমাত্র ফুলের রঙের উপর ভিত্তি করে এই এক্সপেরিমেন্ট করেননি। তিনি ফুলের ৭টা ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে একই পরিক্ষা করে।

তিনি এসব নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে বুঝলেন দুটো trait এর মধ্যে কেবল একটি trait কাজ করে এবং অপরটি অপ্রকাশিত থাকে।

যে trait টি প্রকাশিত হয় তাকে প্রকট বৈশিষ্ট্য বা Dominant বলে।

যে trait প্রকাশ পায় না কিংবা অনেক কম কাজ করে তাকে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য বা recessive বলে।

মেন্ডেল এসব এক্সপেরিমেন্ট থেকে চারটি আইডিয়া পান, সেগুলো হচ্ছে-

i) প্রতিটা single character এর মধ্যে minimum দুটো ভার্সন বা trait থাকে। যেমন মানুষের উচ্চতা (height) যদি একটা character হয় তবে এই character এর দুটো trait থাকবে, লম্বা এবং খাটো। প্রতিটা character এর জন্য একটা particle দায়ী থাকে, এই particle কে জিন বলে। যদিও মেন্ডেল সকল বৈশিষ্ট্যের জন্য একটা ফ্যাক্টর বা জিনকে দায়ী করেছিলেন, কিন্তু বর্তমানে প্রাণির প্রতিটা বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা আলাদা জিন আবিষ্কৃত হয়েছে। যেমন মানুষের উচ্চতার জন্য দায়ী একটা জিন, চুলের রঙের জন্য দায়ী আরেকটা জিন, চোখের রঙের জন্য দায়ী অন্য একটা জিন। জিন গুলো থাকে আমাদের নিউক্লিয়াসের ভেতরে।

ii) প্রতিটা character তৈরি হয় দুটো parent থেকে। অর্থাৎ মায়ের কাছ থেকে একটা trait আসে এবং বাবার কাছ থেকে একটা trait আসে এবং দুটো trait একই ক্রোমোজোমের একটা character তৈরি করে।

iii) ক্রোমোজোমে একটা character-এর দুটো trait থাকার সত্ত্বেও মাত্র একটা trait বেশি পরিমানে প্রকাশ পায় এবং তার অনুপাত বেশি থাকে। কিন্তু অন্য trait এর বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়না কিংবা সেটি কম অনুপাতে থাকে।

iv) সবশেষে মেন্ডেল যেটি বের করেন সেটি তার জেনেটিক্সের প্রথম সূত্র নামে পরিচিত। এটি নিয়ে আমরা পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা করবো।


ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool

অতিথি লেখক হিসেবে আমাদেরকে আপনার লেখা পাঠাতে চাইলে মেইল করুন-

write@thecrushschool.com

Emtiaz Khan

A person who believes in simplicity. He encourages the people for smart education. He loves to write, design, teaching & research about unknown information.

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published.