প্রাণরসায়নের সূচনা (Introduction to Biochemistry)

Biochemistry বা জৈব রসায়ন হচ্ছে বিজ্ঞানের এমন একটি শাখা যেখানে জীবদেহের রাসায়নিক উপাদান এবং গঠন গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। জীবদেহের বিভিন্ন ধরনের অঙ্গ-তন্ত্র কিভাবে চালানো হয় এবং রাসায়নিক উপাদানগুলো জীবদেহে কিভাবে কাজ করে সেগুলো নিয়েই বায়োকেমিস্ট্রির মূল আলোচ্য বিষয়। বায়োকেমেস্ট্রি শাখা আমদেরকে প্রধানত দুটো প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকে-

একটি প্রশ্ন হল: আমরা কি কি উপাদান দিয়ে তৈরি?

এবং অপর প্রশ্ন টি হল: আমাদের শরীরের ভেতরের অংশগুলো কিভাবে কাজ করে?

এছাড়া Biochemistry হচ্ছে একটি ব্যবহারিক অংশ, যেটি আমাদের শরীরের Genetics, কোষবিদ্যা এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (Immune system) নিয়ে আলোচনা করে। এছাড়া এটি আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগ এবং তার কারন নিয়েও আলোচনা করে। আবার বায়োকেমিস্ট্রি এর মাধ্যমে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাজ যেমন পানি বিশুদ্ধ করণ, খাবার উৎপাদন, ঔষধ উৎপাদন করা হয়ে থাকে।

Biochemistry এক ধরনের হ্রাসমূলক প্রসেস যেটি জীবদেহের বড় একটা অংশকে আস্তে আস্তে ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করে এবং সেই অংশগুলো নিয়ে আলোচনা করে। এর মানে হচ্ছে, জীব দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ-তন্ত্র এবং তাদের কাজের ধরনের জন্য দায়ী রাসায়নিক উপাদান গুলোকে বিশ্লেষণ করা হয় Biochemistry শাখায়। আরেকটু ভালোভাবে বললে, জীবদেহের রাসায়নিক উপাদান গুলোর physical এবং chemical structure, তাদের কাজের ধরন এবং তাদের একক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে biochemistry. নিচে একটা ছবি দেখলে এটি ক্লিয়ার হয়ে যাবে।

এই ছবি অনুসারে, আমাদের শরীরের ভেতর বিভিন্ন organ থাকে। সেই organ গুলো অনেকগুলো কোষ নিয়ে গঠিত। প্রত্যেকটা কোষের ভেতর আবার ছোট ছোট কোষ অঙ্গাণু থাকে। সেসব কোষ অঙ্গাণু গুলো আবার বিভিন্ন রাসায়নিক অনু পরমানু নিয়ে গঠিত। এই সব অণু-পরমাণু গুলো যে রাসায়নিক বস্তু দিয়ে গঠিত তাদের নিয়ে আলোচনা করে Biochemistry.

জীবদেহে কিছু কিছু Molecule এর বিক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। বায়োকেমিস্ট্রিতে তাদের বিক্রিয়ার ধরন নিয়ে আলোচনা করা হয়। কিন্তু আমাদের শরীরে অসংখ্য molecule থাকে বলে তাদের সবার সম্পর্কে কম সময়ে ধারণা নেওয়া যায় না। সেজন্য শরীরের প্রত্যেকটা molecule এর কাজের ধরন এবং বিক্রিয়া সম্পর্কে জানার জন্য একটা বিশেষ ধরনের কম্পিউটারকে ব্যবহার করা হয়। Bioinformatics নামক একটা tool ব্যবহার করে বায়োকেমিস্ট্রির বিভিন্ন তথ্য নিয়ে গবেষণা করা হয়। সেজন্য যারা chemist, তাদের ল্যাবরেটরির ভেতরে অবশ্যই কম্পিউটার থাকাটা জরুরী।

এবার আমরা বায়োকেমিস্ট্রি সম্পর্কিত তিনটি প্রশ্নের উত্তর জেনে নেই-

জীব দেহ কি নিয়ে গঠিত?

জীবদেহের কিছু কিছু molecule কোষের physical shape এর জন্য দায়ী এবং বাকি molecule গুলো কোষের বিভিন্ন ধরনের কাজের জন্য দায়ী। তাই আমাদের শরীরে বিভিন্ন chemical molecule গুলো দিয়েই কোষ গঠিত। আর এই কোষ দিয়ে জীব দেহ গঠিত।

কিভাবে জীবদেহ শক্তি অর্জন করে এবং ব্যবহার করে?

জীব কোষের একটা ক্ষমতা আছে, যার মাধ্যমে সে metabolic reaction ঘটায়, তার আকার বড় হয়, কোষ বিভাজনের মাধ্যমে নতুন কোষ তৈরি করে এবং এই reaction এর জন্য জীবকোষ শক্তি গ্রহণ করে। খাবার থেকে কোষ যে পরিমাণ শক্তি গ্রহণ করে সেটা জীব বিভিন্ন কাজ করার মাধ্যমে পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়। একই সাথে কিছু পরিমাণ শক্তি সে সংরক্ষণ করে রাখে পরবর্তীতে কাজ করার জন্য।

কিভাবে বংশের পর বংশ জীবদেহের বিভিন্ন organism তাদের বৈশিষ্ট্য ধরে রাখে?

যখন জীবদেহে কোষ বিভাজন ঘটে তখন একই রকম দেখতে অনেকগুলো কোষ তৈরি হয়। ফলে কোষের ভেতর এর প্রতিটা তথ্য তার আগের মতই থাকে। এজন্য জীবদেহে বংশের পর বংশ ধরে একই বৈশিষ্ট্যের organism দেখা যায়। যদিও মাঝে মাঝে নতুন তৈরি কোষের আকৃতি এবং বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি আগের কোষের মত হয় না, তবুও বেশিরভাগ বৈশিষ্ট্যই আগের কোষের মত থেকে যায়।

ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool

অতিথি লেখক হিসেবে আমাদেরকে আপনার লেখা পাঠাতে চাইলে মেইল করুন-

write@thecrushschool.com

Emtiaz Khan

A person who believes in simplicity. He encourages the people for smart education. He loves to write, design, teach & research about unknown information.

Facebook Comments