কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সূচনা (Introduction to Quantum Mechanics)

স্যার জে জে থমসনের ইলেকট্রন আবিষ্কারের পর পরমাণুর গঠন নিয়ে অনেক বিজ্ঞানীরা মতবাদ বের করা শুরু করে যাদের মধ্যে নীলস বোরের পরমাণু মডেল অন্যতম। তবে বোরের পরমাণু মডেলে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিলো। যেমন-

১. এটি হাইড্রোজেন পরমাণুর বর্ণালির ব্যাখ্যা দিতে পারলেও জটিল কোনো পরমাণুর বর্ণালি পরিক্ষার ফলাফলের ব্যাখ্যা দিতে পারতো না।

২. বর্ণালির মধ্যে কিছু কিছু লাইনের উজ্জ্বলতা বেশি কেনো সেটার ব্যাখ্যা দিতে পারতো না এই মতবাদ।

৩. কঠিন এবং তরল পদার্থের মধ্যে থাকা Bonding গুলো কিভাবে কাজ করে সেটিও এটি ব্যাখ্যা দিতে পারতো না।

৪. একটা পদার্থের একইসাথে কণা ধর্ম এবং তরংগ ধর্ম থাকার (Wave Particle Duality) কারন এটি ব্যাখ্যা করতে পারতো না।

তাই পরবর্তীতে বোরের পরমাণুবাদকে স্বয়ংসম্পূর্ণ পরমাণুর থিওরি হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। সেজন্য ১৯২৫ সালে দুজন পদার্থবিদ আরো ভালো একটা থিওরি নিয়ে আসেন একটা পরমাণুর বৈশিষ্ট্য নিয়ে, যাদের নাম হচ্ছে শ্রোডিঙ্গার এবং হাইজেনবার্গ। তাদের পরমাণু নিয়ে এই থিওরিকে কোয়ান্টাম মেকানিক্স বলে। পরবর্তীতে এই থিওরিটা অনেক বিখ্যাত হয় এবং সকল বিজ্ঞানীদের দ্বারা স্বীকৃতি পায়। প্রশ্ন হচ্ছে কেনো কোয়ান্টাম মেকানিক্স এতটা বিখ্যাত হয়?

কোয়ান্টাম মেকানিক্স থিওরি বিখ্যাত হবার একটা কারণ হচ্ছে এটির মাধ্যমে যেকোনো জটিল পরমাণুর বর্ণালির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। এছাড়া পরমাণু থেকে বের হওয়া অনেকগুলো বর্ণালির মাঝে কিছু কিছু বর্ণালি কেনো উজ্জ্বল সেটাও জানা যায় এই থিওরি থেকে। সেইসাথে পদার্থের Wave-particle duality nature কেও এই থিওরি দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়। আবার পদার্থের microscopic world বা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অবস্থাতে কিভাবে তারা কাজ করে এবং সেই কাজের সাথে আমাদের বিশ্বের পদার্থগুলোর কাজ কিভাবে জড়িতে সেটা নিয়েও ব্যাখ্যা দিতে পারে এই থিওরি।

কোয়ান্টাম মেকানিক্স দিয়ে হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতির (Heisenberg Uncertainty Principle) ব্যাখ্যা দেওয়া যায়। এই নীতিটি হচ্ছে-

যখন কোনো পদার্থের ভরবেগ মাপা যাবে, তখন সেটির অবস্থান বের করা যাবে না। আবার অবস্থান যখন বের করা যাবে, ভরবেগ তখন মাপা যাবে না।

আবার কোয়ান্টাম মেকানিক্স ব্যবহার করে কোনো ক্ষুদ্র কণাকে (Particle) প্রকাশ করা যায় Wave Function ব্যবহার করে। এ সমস্থ কারণে কোয়ান্টাম মেকানিক্স বর্তমানে পরমাণু নিয়ে বেশিরভাগ রহস্য দূর করতে পেরেছে।

ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool

অতিথি লেখক হিসেবে আমাদেরকে আপনার লেখা পাঠাতে চাইলে মেইল করুন-

write@thecrushschool.com

Emtiaz Khan

A person who believes in simplicity. He encourages the people for smart education. He loves to write, design, teach & research about unknown information.

Facebook Comments

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *