ল্যাবরেটরির কাঁচ সামগ্রী (Laboratory Glass Materials)

ল্যাবরেটরিতে কোনো দুর্ঘটনা এবং ক্ষতি এড়ানোর জন্য কাঁচের তৈরি সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। ল্যাবরেটরির কাঁচ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী বানানো হয় যেমন- বুরেট, পিপেট, ফ্লাক্স, মাপন সিলিন্ডার ইত্যাদি কাঁচের তৈরি সামগ্রী।

গ্লাসের তৈরি সামগ্রী গুলো দুই ধরনের হয়-

  • Soft Glass বা কোমল কাঁচ সামগ্রী
  • শক্ত কাঁচ বা পাইরেক্স গ্লাস সামগ্রী

এখন আমরা এই দুই ধরনের গ্লাস সামগ্রীর মধ্যে কিছু বৈশিষ্ট্য দেখে নেই-

 

ল্যাবরেটরির কোমল কাঁচ (Soft Glass) সামগ্রী

  • ফানেল, কাচনল, বিকার, ওয়াচ গ্লাস, রিএজেন্ট বা বিকারক বোতল এদেরকে কোমল গ্লাস সামগ্রী দিয়ে বানানো হয়।
  • কোমল গ্লাসের তাপসহন ক্ষমতা কম, তাই এরা বুনসেন বার্নারের শিখায় উত্তপ্ত হয়ে সহজে নরম হয়ে যায়।
  • কোমল গ্লাস সামগ্রী বানানো হয় সোডিয়াম ও ক্যালসিয়াম সিলিকেটের মিশ্রন দ্বারা।
 

ল্যাবরেটরির পাইরেক্স বা শক্ত কাঁচ সামগ্রী

  • পাইরেক্স গ্লাস স্বচ্ছ হয়। এটি অ্যালুমিনিয়াম অথবা জিংক ও বেরিয়াম বোরো সিলিকেটস দিয়ে তৈরি করা হয়।
  • বিকার, কনিক্যাল ফ্লাক্স, পিপেট, মেজারিং সিলিন্ডার, মেজারিং ফ্লাক্স বা আয়তনিক ফ্লাস্ক, গোলতলী ফ্লাক্স, পাতন ফ্লাক্স, কনিকেল ফ্লাস্ক, ব্যুরেট ইত্যাদি পাইরেক্স গ্লাস দিয়ে তৈরি করা হয়।
  • পাইরেক্স গ্লাস সামগ্রী উচ্চ তাপসহন ক্ষমতাশীল, ফলে বুনসেন বার্নারের শিখায় এদের তেমন কিছুই হয় না। তাই এদের ল্যাবরেটরিতে নিরাপদে ব্যবহার করা হয়।
  • সহজে ভাঙে না এবং নরম হয়ে গলে যায় না।
  • পাইরেক্স গ্লাস খুব দ্রুত তাপমাত্রা নিতে পারে এবং দ্রুত পরিবেশে তাপমাত্রা বর্জন করতে পারে, তাই এটি দ্রুত শীতল হয় বলে সহজেই একে ল্যাবরেটরিতে ব্যবহার করা হয়।

 

ল্যাবের যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করার কৌশল

একটা ল্যাবরেটরিতে যখন তোমরা বিভিন্ন ধরনের এক্সপেরিমেন্ট করো তখন তোমাদেরকে কিছু বিকারক ব্যবহার করতে হয়। এসব বিকারক বা কেমিক্যাল রিএজেন্ট গুলোর মধ্যে এসিড, ক্ষার ইত্যাদি তোমরা অবশ্যই ব্যবহার করে থাকো। কিন্তু তোমাদের এক্সপেরিমেন্ট শেষ হবার পর যদি তোমরা ল্যাবরেটরির টেস্টটিউব, গ্লাস কিংবা ফানেলগুলো পরিষ্কার না করো তবে পরবর্তীতে আবার সেই একই গ্লাস, ফাননেল কিংবা টেস্টটিউব দিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করার সময় তোমরা ভুল রেজাল্ট পাবে। আমরা কীভাবে বিভিন্ন গ্লাসসামগ্রী যেমন টেস্ট টিউব, বিকার, ফানেল ইত্যাদি পরিষ্কার করব সেটা নির্ভর করবে কোন জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করব সেটার উপর। জৈব পদার্থ সাধারণত জৈব দ্রাবকে দ্রবীভূত হয় এবং অজৈব পদার্থগুলো পানি দিয়ে পরিষ্কার করা যায়। কাজেই ল্যাবরেটরিতে প্রত্যেকটা যন্ত্রপাতি পরিষ্কার থাকতে হবে। তা না হলে আমরা যখন যে এক্সপেরিমেন্টই করি না কেনো সেটার রেজাল্ট ভুল আসার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও গ্লাস সামগ্রী পরিষ্কার করার জন্য সবচেয়ে ভালো উপাদান হচ্ছে পানি। পানি ব্যবহার করার মাধ্যমে আমরা সহজেই এসিড কিংবা ক্ষারকে পরিষ্কার করতে পারি। কেননা এসিড এবং ক্ষার দুটোই পানিতে দ্রবণীয়। তবে পানি দিয়ে ধোয়ার আগে প্রত্যেক যন্ত্রপাতিকে ডিটারজেন্ট মিশ্রিত দ্রবণে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর একটি ব্রাশ বা স্ক্রাবার ( scrubber ) এর সাহায্যে গ্লাসের ভিতরে এবং বাহিরে ভালোমতো পরিষ্কার করে নিতে হবে। সবশেষে আরো একবার পানি এবং এসিটোন দিয়ে যন্ত্রপাতিগুলোকে ধুয়ে নিতে হবে। ধোয়া শেষ হলে খেয়াল রাখতে হবে যেন যন্ত্রপাতিতে ফোঁটা ফোঁটা পানি না জমে থাকে।

এছাড়া ল্যাবরেটরিতে যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করার জন্য আমরা গরম পানিও ব্যবহার করতে পারি। গরম পানি সাধারণ পানির চেয়েও অনেক বেশি সক্রিয়। তাই এটি দিয়ে খুব দ্রুত এসিড এবং ক্ষারকে পরিষ্কার করা যায়।

যদি সাধারন পানি এবং গরম পানি দুটোর কোনোটি দিয়েই এসিড এবং ক্ষারকে পরিষ্কার করা না যায় তবে আমরা ক্রোমিক এসিড (H2CrO4) ব্যবহার করতে পারি। ক্রোমিক এসিড হচ্ছে পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট (K2Cr2O7) এবং সালফিউরিক এসিডের (H2SO4) মিশ্রণ। পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট এবং সালফিউরিক এসিড বিক্রিয়া করে জায়মান অক্সিজেন তৈরি করে-

K2Cr2O7 + H2SO4 = K2SO4 + Cr2(SO4)3 + H2O + [O]

জায়মান অক্সিজেন এর খুব সুন্দর একটা গুণ আছে। যখন এটি কোনো ময়লার সাথে যুক্ত হয় তখন সে ময়লাকে জারিত করে। ময়লা জারিত হয়ে অধঃক্ষেপ তৈরি করে। তখন পানি ব্যবহার করে অধঃক্ষেপ যুক্ত ময়লা গুলোকে সহজেই পরিষ্কার করে ফেলা যায়। সেজন্য ক্রোমিক এসিডকে পরিষ্কার করার কাজে ল্যাবরেটরিতে ব্যবহার করা হয়।

ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতিতে মাঝেমাঝে গ্রিজের আস্তর পড়ে। একে দূর করার জন্য বিভিন্ন জৈব দ্রাবক যেমন মিথাইল ইথাইল কিটোন বা অ্যাসিটোন ব্যবহার করতে হবে।

10% লঘু Na2CO3 দ্রবণ পরীক্ষা করার সময় সেখানে ব্যবহার করে ময়লা গ্লাস সামগ্রী কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখতে হবে। তারপর ব্রাশ দিয়ে ঘষে পানিতে ধুয়ে ময়লা পরিষ্কার করতে হবে ।

এছাড়া সবশেষে গ্রিজ, পলিমারিক আস্তরন, আলকাতরা, সিলিকন তেলজাত পদার্থ দূর করতে ভালো পরিষ্কারক হিসেবে ডেকন- ৯০ ( Dacon 90 ) ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা হয়।

পাখি শিকার, গুলতি কিংবা বন্দুক দিয়ে পাখিদের মেরে ফেলা, পাখিদের উপর অত্যাচার করা বন্ধ করুন! ভুলে যাবেন নাহ আপনার প্রতিটা কাজের জন্য আপনাকে জিজ্ঞেসাবাদ করা হবে এবং আপনাকে হিসাব দিতে হবে!
Emtiaz Khan (Founder | Crush School)

পড়াশোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শত শত ভিডিও ক্লাস বিনামূল্যে করতে জয়েন করুন আমাদের Youtube চ্যানেলে-

www.youtube.com/c/crushschool

ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool