বিগ ব্যাং এর শেষ ভাগ (Last Portion after the Big Bang)

বিগ ব্যাং সংগঠিত হবার ঠিক পরমুহূর্তে বিভিন্ন ধাপে সময়কে ভাগ করা হয়, যে সময় গুলোতে মহাবিশ্বের অনেককিছুর পরিবর্তন ঘটে। এই সময়কালগুলো হচ্ছে-

10-12 সেকেন্ড থেকে 10-6 সেকেন্ড

বিগ ব্যাং এর পর এই রেঞ্জ পর্যন্ত সময়কে কোয়ার্ক কাল বা Quark Time বলে। তোমরা জানো যে মহাবিশ্বে প্রতিটা পদার্থের একটি করে এন্টি পদার্থ বা প্রতি পদার্থ রয়েছে। যদিও তোমরা কখনো সেগুলোকে নিজ চোখে দেখোনি! যখন কোনো পদার্থ তার এন্টি পদার্থের সংস্পর্শে আসে তখন উভয় পদার্থই উধাও হয়ে যায়। এটা কিন্তু ভয়ংকর একটা ব্যাপার! এখন বিগ ব্যাং এর ঠিক 10-12 সেকেন্ড থেকে 10-6 সেকেন্ড পর্যন্ত এই সময়টিতে কোয়ার্ক এবং তার এন্টি কোয়ার্ক পরস্পর মিলিত হয় এবং উধাও হয়ে যেতে শুরু করে। এই ঘটনাকে Baryogenesis বলে।

কিন্তু সেই সময় সব কয়টা কোয়ার্ক যদি তার এন্টি কোয়ার্কের সাথে মিলিত হতো তবে বাস্তবে আমরা এই সময়টাতে কোন কোয়ার্কের অস্তিত্ব পেতাম না। ফলে এখন কোনো পদার্থের অস্তিত্ত্বও থাকতো না। তারমানে বোঝা গেলো, সবগুলো কোয়ার্ক তখন তাদের এন্টি কোয়ার্কের সাথে মিলিত হয়নি। কিছু কোয়ার্ক সাধারণ অবস্থায় ছিল এবং তাদেরকে এখন আমরা বিভিন্ন পরমাণুতে দেখতে পাই। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে পেয়েছেন সেই সময়টিতে প্রতি বিলিয়নে একটিমাত্র কোয়ার্ক রক্ষা পেয়েছিল তাদের এন্টি কোয়ার্কের হাত থেকে এবং তারাই পরবর্তীতে পদার্থ গঠন করে।

10-6 সেকেন্ড থেকে 1 সেকেন্ড

বিগ ব্যাং এর পর এই সময়টিকে হ্যাড্রন সময় বা Hadron Time বলে। এই সময়টিতে মহাবিশ্বের তাপমাত্রা 1011 ক্যালভিনে নেমে আসে, অর্থাৎ তখন কোয়ার্ক-গ্লুয়ন-প্লাজমা স্যুপের কোনো অস্তিত্ব থাকে না। এই সময়টিতে অনেকগুলো কোয়ার্ক মিলিত হয়ে হ্যাড্রন কণা নামক এক ধরনের কণা গঠন করে। এছাড়া এই সময়টিতে ইলেকট্রন এবং প্রোটন প্রচুর পরিমাণ সংঘর্ষ করে এবং তাদের সংঘর্ষের ফলে নিউট্রন এবং নিউট্রিনো তৈরি হয়। নিউট্রিনো কণাটিকে নিয়ে এখনকার সময় তেমন একটা স্টাডি করা হয় না। আমরা শুধুমাত্র ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন নিয়েই জানি।

এতক্ষণ পর্যন্ত আমরা যেসব সময় নিয়ে আলোচনা করেছিলাম তার সবগুলোই হচ্ছে বিগ ব্যাং সংঘটিত হওয়ার পরের এক সেকেন্ড সময়। এবার আমরা বিগ ব্যাং সংঘটিত হবার পরে এক সেকেন্ড থেকে তিন মিনিট সময় পর্যন্ত কি কি ঘটেছিল সেগুলো নিয়ে জানব।

1 সেকেন্ড থেকে 3 মিনিট

বিগ ব্যাং সংগঠিত হবার পরের 1 সেকেন্ড থেকে 3 মিনিট পর্যন্ত টাইম কে বলা হয় Lapton Time. স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে লেপটন এর অন্তর্ভুক্ত 6 ধরনের কণা পাওয়া যায়। লেপটন সময়টিতে এই ছয় ধরনের কণারা বিভিন্ন ধরনের ক্রিয়া-বিক্রিয়া এবং সংঘর্ষ করেছিলো। আবার এই সময় ইলেকট্রন এবং পজিট্রন এরা একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছিল, কেননা ইলেকট্রনের এন্টি পদার্থ হচ্ছে পজিট্রন।

3 মিনিট থেকে 20 মিনিট

বিগ ব্যাং সংঘটিত হবার পরে 3 মিনিট থেকে 20 মিনিট সময় পর্যন্ত একটা প্রসেস চলছিলো যার নাম Nucleosynthesis. Synthesis কথাটার মানে হচ্ছে সংশ্লেষণ। অর্থাৎ এই সময়টিতে পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে সংশ্লেষ ঘটেছিল। এই সময়টিতে তাপমাত্রা 109 কেলভিনে নেমে আসে এবং এই তাপমাত্রায় মহাবিশ্বে তখন নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া ঘটেছিলো। ফলে প্রোটন এবং নিউট্রন এরা দুজন মিলে বিভিন্ন ধরনের প্রাথমিক মৌল যেমন হাইড্রোজেন, হিলিয়াম, লিথিয়াম ইত্যাদি মৌল গঠন করেছিল।

3 মিনিট থেকে 2,40,000 (দুই লাখ চল্লিশ হাজার) বছর

বিগ ব্যাং এর পর 3 মিনিট থেকে 240000 বৎসর পর্যন্ত একটা বিশাল সময় অতিক্রম করে মহাবিশ্ব। এই সময়টিকে ফোটনের কাল বা Photon Time বলে। অর্থাৎ এই সময়টিতে মহাবিশ্বে ফোটন অনেক বেশি প্রভাব বিস্তার করেছিলো।

2,40,000 বছর থেকে 3,00,0000 (ত্রিশ লক্ষ) বছর

ফোটন কাল শেষ হবার পর 2,40,000 বছর থেকে 3,00,0000 বছর পর্যন্ত মহাবিশ্বে দুই ধরনের প্রসেস ঘটে। একটি হচ্ছে Recombination Process. এই সময়টিতে মহাবিশ্বের তাপমাত্রা কমে যাচ্ছিলো, তাই হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম এরা তখন আয়নিত অবস্থায় ছিলো, অর্থাৎ পজেটিভ চার্জযুক্ত অবস্থায় ছিলো। কিন্তু তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম নিজেরা পজেটিভ চার্জযুক্ত হওয়ায় তারা ইলেকট্রনকে নিজের দিকে টেনে নেওয়া শুরু করে। ফলে তারা আয়নিত অবস্থা থেকে সরে নিরপেক্ষ অবস্থাতে চলে আসে। ঠিক একই ভাবে আমরা যদি অন্যান্য মৌলদের দেখি তবে তারাও এই রিকম্বিনেশন প্রসেস থেকে ইলেকট্রন নিয়ে নিজেরা নিরপেক্ষতা লাভ করেছে। এছাড়া এই সময়টিতে আরো একটি ঘটনা ঘটে যার নাম Decoupling. এই প্রসেসে ইলেকট্রন, প্রোটন এবং ফোটন এরা নিজেদের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ার ফলে নতুন নতুন পদার্থ তৈরি করা শুরু করে।

3,00,0000 বছর থেকে 150 মিলিয়ন বছর

এর পর 3000000 বছর থেকে 150 মিলিয়ন বছর পর্যন্ত সময়কে অন্ধকারের যুগ বা Dark Age বলা হয়। কারণ ধারণা করা হয় এই সময়টাতে মহাবিশ্বে কোথাও কোন আলো ছিল না, অন্ধকারে আচ্ছন্ন ছিল সবকিছু। এই সময় মহাবিশ্বে ফোটন ঠিকই হয়েছিল কিন্তু আলো তৈরি করার মত কোন নক্ষত্র ছিল না। এছাড়া এই সময়টিতে পুরো মহাবিশ্বের ডার্ক ম্যাটার নামক এক ধরনের কণা বেশি পরিমানে ছিল।

150 মিলিয়ন বছর পর মহাবিশ্বে বড় বড় এবং উজ্জ্বল জিনিস তৈরি হওয়া শুরু করে, ফলে আমাদের গ্রহ, উপগ্রহ এবং নক্ষত্র এরাও বিগ ব্যাং সংঘটিত হবার 150 বছর পর তৈরি হতে থাকে।

ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool

অতিথি লেখক হিসেবে আমাদেরকে আপনার লেখা পাঠাতে চাইলে মেইল করুন-

write@thecrushschool.com

Emtiaz Khan

A person who believes in simplicity. He encourages the people for smart education. He loves to write, design, teach & research about unknown information.