উদ্ভিদের নামকরণ (Nomenclature of Plants)

শ্রেণীবিন্যাসের প্রতিটি একক (স্তর বা ধাপ) বা ট্যাক্সনের জন্য একটি বৈজ্ঞানিক নামের প্রয়োজন। এদেরকে নাম দেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক নীতিমালা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ বিধানের নিয়মনীতিগুলো international Botanical Congress দ্বারা নির্ধারিত। প্রতি ৫ বছর পর পর এ কংগ্রেসের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ICBN এর নীতি অনুসরণে কোন ট্যাক্সনের একটি স্বতন্ত্র নাম প্রদান করাকে বলা হয় নামকরণ। অন্যভাবে বলা যায়, কোন উদ্ভিদের (বা প্রাণীর) বৈজ্ঞানিক নাম দেয়া সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরি, ব্যাখ্যা ও প্রয়োগকে নামকরণ বলা হয়।

ICBN হল উদ্ভিদের নামকরণের জন্য নীতি নির্ধারণী আন্তর্জাতিক দলিল। এর পূর্ণ নাম International Code of Botanical Nomenclature. প্রকৃতপক্ষে এটি নিয়ম-নীতি বিষয়ক একটি বই। এ বইটি তিনটি ভাষায় রচিত (ইংরেজি, জার্মান ও ফ্রান্স)। এতে প্রকাশিত Code ৩টি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত। প্রথম পর্যায়ে Code-এর ৭টি নীতি, দ্বিতীয় পর্যায়ে Code-এর আইনসমূহ এবং তৃতীয় পর্যায়ে Code-এর পরিবর্তন ও পরিমার্জন সম্বন্ধীয় বিষয়সমূহের আলোচনা করা হয়েছে। Code-এর আইনসমূহকে বিভিন্ন অধ্যায়, সেকশন, আর্টিকেল ও রিকমেন্ডেশন এ বিভক্ত করা হয়েছে। ICBN উদ্ভিদ নামকরণের নিয়ম-নীতি প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যেমন- ICBN স্বীকৃত আমের বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica L.

 

দ্বিপদ নামকরণ (Binomial Nomenclature)

ICBN এর নীতিমালা অনুসারে কোন গণ নামের শেষে একটি প্রজাতিক পদ (specific epithet) যুক্ত করে দু’টি পদের (শব্দের) মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির জন্যে একটি নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক নাম প্রদান করাকে বলা হয় দ্বিপদ নামকরণ। সুইডিশ প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnacus. 1707-1778) সর্বপ্রথম উদ্ভিদের নামকরণের গুরুত্ব উপলব্ধি করেন। তিনি ১৭৫৩ সালে সর্বপ্রথম তার (Species Plantarum) বইতে বর্ণিত সকল উদ্ভিদ প্রজাতির জন্যে দ্বিপদ নাম প্রদান করেন। কাজেই লিনিয়াসই দ্বিপদ নামের প্রবর্তক।

কাঠালের বৈজ্ঞানিক নাম Artocarpus heterophyllus. এখানে Artocarpus হল গণ নাম, আর heterophyllus হল প্রজাতিক পদ। কাজেই Artocarpus গণ নামের শেষে প্রজাতিক পদ heterophyllus যুক্ত হয়ে কাঠালের দ্বিপদ নাম হল Artocarpus heterophyllus। Artocarpus গণের শেষে প্রজাতিক পদ chaplasha যুক্ত হয়ে চাপালিশ গাছের দ্বিপদ নাম হল Artocarpus chaplasha, Artocarpus গণের শেষে প্রজাতিক পদ lacucha যুক্ত হয়ে ডেওয়ার দ্বিপদ নাম হল Artocarpus lacucha Oryza। গণ নামের শেষে প্রজাতিক পদ sativa যুক্ত হয়ে ধানের দ্বিপদ নাম হল Oryza sativa. ICBN অনুযায়ী দ্বিপদ নামকরণের কতিপয় নিয়মাবলি / নীতিমালা আছে-

  • কোন জীবপ্রজাতির নাম দুটি পদ (শব্দ বা অংশ) নিয়ে গঠিত হবে।
  • প্রজাতিক পদ অবশ্যই গণ নামের পরে লিখতে হবে।
  • ল্যাটিন ভাষায় দ্বিপদ নাম গঠন করতে হবে।
  • নামের শেষে নাম প্রদানকারী বিজ্ঞানীর নাম লিখতে হবে (প্রয়োজনে সংক্ষিতভাবে)
  • কেবলমাত্র প্রজাতির ক্ষেত্রে দ্বিপদ নাম প্রযোজ্য হবে।
  • প্রথম নাম প্রকাশ করার সময় নামের সাথে অবশ্যই ল্যাটিন ভাষায় একটি বর্ণনা দিতে হবে।
  • নামের অবশ্যই একটি টাইপ (প্রতীক নমুনা) নির্দেশনা থাকতে হবে।
  • নামকে অবশ্যই Validly প্রকাশ করতে হবে।
  • একটি প্রজাতির একটিমাত্র শুদ্ধ নাম থাকবে, প্রকাশের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুদ্ধ নাম নির্ণয় করতে হবে।
  • দ্বিপদ নাম ইটালিক (ডানদিকে একটু বাকা) বা মোটা অক্ষরে ছাপাতে হবে।
  • দ্বিপদ নামকরণ হাতে লিখলে ইংরেজি অক্ষর ব্যবহার করতে হবে এবং অংশ দুটির নিচে (একটি গণ, অপরটি প্রজাতিক পদ) আলাদা আলাদাভাবে দাগ টানতে হবে। (যেমন Oryza sativa L)
  • দ্বিপদ নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতের হবে।
  • প্রজাতির উপরের স্তরের (যেমন- বিভাগ, শ্রেণী, বর্গ ইত্যাদি) নাম হবে একপদী।

 

দ্বিপদ নামকরণের প্রয়োজনীয়তা

  • সকল প্রজাতির নামের মাঝে একটি সমতা আনা,
  • বহুভাষায় বহু নামের জটিলতা পরিহার করা,
  • একক নামে বিশ্বের সকল ভাষার লোকের কাছে পরিচয় করানো,
  • ভাষা ও রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার দাবী থেকে মুক্ত রাখা,
  • শনাক্তকরণ পদ্ধতি সহজ করা।

পড়াশোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শত শত ভিডিও ক্লাস বিনামূল্যে করতে জয়েন করুন আমাদের Youtube চ্যানেলে-

www.youtube.com/crushschool

ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool

Facebook Comments