জীবদেহের নিউক্লিক এসিড

নিউক্লিক এসিড (Nucleic Acid) দিয়ে আজকে আমরা শুরু করবো সবকিছু। নিউক্লিক এসিড আসলে কি? অবশ্যই একটা এসিড! এটি আমাদের শরীরের কোষে ক্রোমোসোম নামক একটা অংশে থাকে।

তার আগে আরো দুজনের কথা বলতে হবে তোমাদের। একজন হচ্ছে মনোমার (monomer) আরেকজন হচ্ছে পলিমার (polymer). তোমরা আগে থেকেই জানো যে অনেকগুলো মনোমারকে নিয়েই পলিমার তৈরি তাই নাহ? আমাদের নিউক্লিক এসিড হচ্ছে একটা পলিমার। এটি অনেকগুলো মনোমারকে নিয়ে তৈরি হয়। মনোমারের নামটা খুব সুন্দর, যাকে নিউক্লিওটাইড (nucleotide) বলে।

অর্থাৎ তুমি যদি নিউক্লিক এসিডকে আর্দ্রবিশ্লেষণ করো তাহলে অনেকগুলো ছোট ছোট নিউক্লিওটাইডের মনোমার পাবে।

নিউক্লিক এসিড

এবার আসো নিউক্লিওটাইড জিনিসটা কি, কেমন, কি করে এসব দেখি। প্রথমে একটা নিউক্লিওটাইডের Chemical Structure / রাসায়নিক গঠনটা দেখি-

কিছু বোঝা যায়? অবশ্যই বোঝা যাচ্ছে না, তবে আমরা ধাপে ধাপে বুঝবো।

উপরের চিত্রে ৩টা অংশ আছে(coloring করা)। তারমানে নিউক্লিওটাইড ৩টা অংশ নিয়ে তার পুরো শরীর গঠন করে। অংশ ৩টা হলো-
১. ফসফেট অংশ / Phosphate group
২. শর্করা অংশ / Pentose sugar
৩. নাইট্রোজেন ক্ষারের অংশ / Nitrogen base

এখন প্রতিটা অংশ নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করি আসো-

চলো প্রথমে মাঝখানের বড় অংশটা মানে Pentose sugar / শর্করা নিয়ে ঘাটাঘাটি করি। শর্করা / Pentose sugar দুই ধরনের হয়। একটা Ribose sugar আরেকটা Deoxyribose sugar. এই দুজনের Chemical Structure / রাসায়নিক গঠনটা একটু দেখে নেই-

নিউক্লিক এসিড

Pentose sugar মানে হচ্ছে ৫ কার্বন বিশিষ্ট চিনি। তাই উপরের ছবিতে 1′, 2′, 3′, 4′, 5′ পর্যন্ত Pentose sugar-এর কার্বন(C)-কে নাম্বারিং করেছি আমরা। Pentose sugar- 1, 2 … 5 number না দিয়ে 1′, 2′ … 5′ number কেনো দিলাম সেটার কারন হলো Nitrogen base-এও আমাদের নাম্বারিং করতে হবে। তখন আমরা 1, 2, … 5 এসব ব্যবহার করবো। খেয়াল করো উপরের দুটো Pentose Suger-এর Chemical Structure-টা একই কিন্তু একটা জায়গায় পার্থক্য আছে আর সেটা হলো ২ নং কার্বনটা। Ribose sugar-এর ২ নং কার্বনে (-)ve OH (হাইড্রক্সিল) গ্রুপটা আছে আর Deoxyribose sugar-এর ২ নং কার্বনে (-ve) OH গ্রুপটা নেই, আছে শুধু হাইড্রোজেন (H2)।

এখন Nitrogen base / নাইট্রোজেন ক্ষারের দিকে চলো। Nitrogen base আবার দুই ধরনের হয়, একটার Structure-এ মাত্র ১টা Ring থাকে, আরেকটার Structure-এ ২টা Ring থাকে। যেটাতে ১টা Ring থাকে তাকে পাইরিমিডিন (pyrimidine) আর যেটাতে ২টা Ring থাকে তাকে পিউরিন (purine) বলি আমরা।

পাইরিমিডিন গ্রুপে ৩টা ক্ষার আছে- থাইমিন (thiamine), সাইটোসিন (cytosine) ও ইউরাসিল (uracil). কিন্তু পিউরিন গ্রুপে ২টা ক্ষার আছে- এডেনিন (adenine), গুয়ানিন (guanine).

সবশেষে আসি ফসফেট অংশের কাছে। এই ফসফেট গ্রুপটাকে আমরা ফসফোরিক এসিড (phosphoric acid- H3PO4) থেকে পাবো এবং এটি একটা (-)ve গ্রুপ।

 

এবার আমাদের আগের সেই Chemical Structure-টাতে ফিরে যাই, কিভাবে এরা ৩টা part একে অপরের সাথে লেগে ছিলো সেটা দেখি-

খেয়াল করো, যখন Pentose sugar-এর ১ নং কার্বনের (-)ve OH গ্রুপটা সরিয়ে আমরা যেকোনো Nitrogen base যোগ করি তাহলে আমরা পুরো নিউক্লিওটাইডের অর্ধেক গঠন পাবো। এই অসম্পূর্ণ গঠনটার সুন্দর নাম আছে, একে নিউক্লিওসাইড বলে। মানে Pentose sugar-এর ১ নং কার্বনে Nitrogen base জোড়া লেগে নিউক্লিওসাইড বানিয়ে ফেলে।

বাকি থাকলো ফসফেট গ্রুপ। এখন ফসফেট গ্রুপটা Pentose sugar-এর ৫ নং কার্বনের (-)ve OH গ্রুপকে সরিয়ে সেখানে জোড়া লেগে যায়। তখন পুরো গঠনটাকে আমরা নিউক্লিওটাইড বলতে পারি।

নিউক্লিক এসিড

লক্ষ করে দেখেছো? Pentose sugar-এর যে ১ নং ও ৫ নং কার্বনের শুধু (-)ve OH গ্রুপটা সরে গেছে, বাকি সব ঠিকঠাক আছে।

একটা মজার ব্যাপার হলো নিউক্লিওটাইড গঠনের সময় ফসফেট গ্রুপ যেমন ছিলো তেমনি থাকে, শুধু বদলে যায় নাইট্রোজেন ক্ষার আর শর্করাটা (Pentose sugar)। কারন আমরা দেখেছিলাম নাইট্রোজেন ক্ষার ৫ ধরনের হতে পারে- এডেনিন(A), গুয়ানিন(G), সাইটোসিন(C), থায়োমিন(T) এবং ইউরাসিল(U). এই Nitrogen base-এর প্রথম অক্ষর অনুযায়ী আমরা যেকোনো নিউক্লিওটাইডকে প্রকাশ করি। যেমন তুমি একটা নিউক্লিওটাইড পেলে যেটার Nitrogen base হচ্ছে গুয়ানিন(G), আমরা সেটাকে বলবে G-নিউক্লিওটাইড। এভাবে U-নিউক্লিওটাইড, A-নিউক্লিওটাইড, C-নিউক্লিওটাইড নামকরণ করতে পারি আমরা।

শর্করা দুই ধরনের হতে পারে আগেই বলেছি। একটা Ribose sugar আরেকটা Deoxyribose sugar. যখন শর্করাটা Ribose sugar হবে তখন সেই টোটাল নিউক্লিক এসিডের নাম হবে রাইবো নিউক্লিক এসিড (RNA – Ribonucleic Acid), আবার শর্করাটা Deoxyribose sugar হলে সেই নিউক্লিক এসিডের নাম হবে ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড (DNA – deoxyribonucleic acid) ! চেনা চেনা লাগছে নাহ DNA & RNA নাম দুটোকে! তাহলে বুঝে নাও RNA এবং DNA দুটোই নিউক্লিক এসিড।

তবে DNA-তে নাইট্রোজেন ক্ষার (Nitrogen base) হিসেবে থাইমিন (T), সাইটোসিন (C), এডেনিন (A) এবং গুয়ানিন (G) এগুলো থাকলেও RNA-তে নাইট্রোজেন ক্ষার (Nitrogen base) হিসেবে সাইটোসিন (C), এডেনিন (A) গুয়ানিন (G) এবং ইউরাসিল (U) থাকে।


ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool

অথিতি লেখক হিসেবে আমাদেরকে আপনার লেখা পাঠাতে চাইলে মেইল করুন-

write@thecrushschool.com

Emtiaz Khan

Emtiaz Khan is a person who believes in simplicity. He encourages the people for smart education. He loves to write, research about new information. Currently he is studying at the department of EEE.

Facebook Comments