তড়িতের উৎপত্তি (Origin of Electricity)

 তড়িৎ বর্তমান সভ্যতার চাবিকাঠি এবং ভিত্তি প্রস্তর। তড়িৎ ছাড়া বর্তমান সভ্যতার কথা চিন্তাই করা যায় না। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তড়িতের ব্যাপক প্রয়োগ পরিলক্ষিত হয়। শিল্পে ও দৈনন্দিন কাজ-কর্মে এর প্রয়োগ পরিহার্য। তড়িতের সাহায্যে কল-কারখানা, ট্রেন, ট্রাম ও পাখা চলে। ঘর-বাড়ি আলোকমালায় সজ্জিত হয়। টলিগ্রাফ, টেলিফোন, রেডিও এবং টেলিভিশন তড়িতের সাহায্যে সচল হয়। তাহলে প্রশ্ন জাগে তড়িৎ আসলে কি? পদার্থ নাকি শক্তি? এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় যে, পদার্থের সব বৈশিষ্ট্য তড়িতের মধ্যে নেই। অতএব, তড়িৎ এক প্রকার শক্তি। তড়িৎকে অন্য শক্তিতে এবং অন্য শক্তিকে তড়িৎ বা বিদ্যুতে রূপান্তর করা যায় এবং তড়িতের সাহায্যে বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করা যায়।

তড়িৎ শব্দটিকে গ্রীক শব্দ ‘Elektron’ হতে গ্রহণ করা হয়েছে। Electron শব্দের অর্থ সোলেমানী পাথর বা অ্যাম্বার (Amber – যা পাইন গাছের শক্ত আঠা)। খ্রিস্টপূর্ব 600 অব্দে গ্রীক দার্শনিক থেলস্ (Thales) করেন যে, অ্যাম্বারকে রেশমী কাপড় দ্বারা ঘর্ষণ করলে তার মধ্যে একটি অদৃশ্য শক্তির উদ্ভব হয় এবং অ্যাম্বার আকর্ষণ গুণ প্রাপ্ত হয়। ফলে তা ছোট ছোট কাগজের টুকরাকে আকর্ষণ করে। এই অদৃশ্য শক্তিকে তড়িৎ বা বিদ্যুৎ (Electricity) বলে। এটাও বলা হয় যে, বস্তুতে তড়িৎ আধান বা ইলেকট্রিক চার্জ (Electric charge) বা সংক্ষেপে চার্জ বা আধান (Charge) এর সঞ্চার হয়েছে।

1600 খ্রিস্টাব্দে ডক্টর গীবার্ট (Dr. Gilbert) পরীক্ষার সাহায্যে দেখান যে, শুধু অ্যাম্বারকেই নয়, কাচ, রাবার, ইবোনাইট, গন্ধক প্রভৃতিকে ঘষলেও এরূপ ক্রিয়া হয়। শীতকালে রবার বা প্লাস্টিকের চিরুণী দ্বারা চুল আঁচড়ালে চিরুণী কাগজের টুকরাকে আকর্ষণ করে। তাই তিনি এই ঘটনাকে তড়িতাহিতকরণ বা বিদ্যুতাহিতকরণ (Electrification) নাম দেন। যে সমস্ত বস্তুতে তড়িৎ বা চার্জের সঞ্চার হয় তাদেরকে তড়িৎগ্রস্ত বা বিদ্যুতগ্রস্থ বা আহিত বা চার্জিত (Electrified or charged) বস্তু বলে। এটাও বলা হয় যে, তাতে তড়িৎ আধানের বা সংক্ষেপে আধানের সঞ্চার হয়েছে। আর যে সমস্ত বস্তুতে তড়িৎ বা চার্জ থাকে না তাদেরকে অ-আহিত বা অ-চার্জিত (Uncharged) বস্তু বলে।

 

আধান আসলে কী?

যার উপস্থিতিতে কোনো বস্তুতে স্থির তড়িৎ, তড়িৎ ক্ষেত্র, স্থির তড়িৎ শক্তির সঞ্চার হয়, বস্তু ছোট ছোট কাগজের হালকা টুকরা আকর্ষণ করবার সামর্থ্য রাখে এবং যার গতিতে তড়িৎ প্রবাহ ও চৌম্বক ক্ষেত্রের উদ্ভব হয় তাকে চার্জ বলে।

‘‘মৃতের সম্পদ তার পরিবারের সদস্যদের ভেতর বণ্টন করতে হবে।’ (আল-কুরআন, সূরা : নিসা)

পড়াশোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শত শত ভিডিও ক্লাস বিনামূল্যে করতে জয়েন করুন আমাদের Youtube চ্যানেলে-

www.youtube.com/crushschool

ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published.