ভৌত রাশি ও একক (Physical Quantity & Unit)

এই জগতে যেসব জিনিসদেরকে পরিমাপ করা যায় তাদেরকে রাশি বলে এবং জগতে যেসব জিনিসদেরকে পরিমাপ করা যায় না তাদেরকে রাশি বলা হয় না। কয়েকটা উদাহরণ দিলে এই দুটো জিনিসকে ভালোভাবে বোঝা যাবে।

যেমন- তোমাদের মাঝে মাঝে জ্বর হলে তোমরা থার্মোমিটার ব্যবহার করে শরীরের তাপমাত্রা মাপতে পারো। জ্বর হলে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা 100 ডিগ্রি ফারেনহাইট এর মত হয়। আবার আমরা ঘড়ি থেকে বিভিন্ন সময় সম্পর্কে জানতে পারি, যেমন বিকেল 10 টা 10 মিনিট। আবার এক জায়গা থেকে আরেক জায়গার দূরত্ব আমরা মারতে পারি, যেমন তোমার বাসা থেকে স্কুল এর দূরত্ব 5 কিলোমিটার। অর্থাৎ দূরত্ব, তাপমাত্রা, সময় এগুলোকে পরিমাপ করা যায় বলে এরা একেকটি হচ্ছে রাশি। কেননা রাশিকে প্রকাশ করা হয় কিছু সংখ্যা দ্বারা, যেমন- 10 টা 10 মিনিট, 5 কিলোমিটার, 100 ডিগ্রি ফারেনহাইট ইত্যাদি।

আবার আমরা কিছু কিছু জিনিস কখনোই পরিমাপ করতে পারি না, যেমন তোমাকে কেউ অপমান করলে সেই অপমানের পরিমানটা তুমি কখনোই মাপতে পারবে না। আবার তুমি যদি কখনো খুব হাসি-খুশি থাকো কিংবা কষ্টে থাকো তবে সেগুলোর পরিমাণও তুমি কখনোই মেপে বের করতে পারবে না। কাজেই এই সকল জিনিসগুলো রাশি না, অর্থাৎ যারা রাশি না তাদেরকে সুনির্দিষ্ট কোনো মান দিয়ে প্রকাশ করা যায় না।

 

রাশির প্রকারভেদ

রাশি সমূহের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার উপর ভিত্তি করে রাশিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়-

১. মৌলিক রাশি : যেসব অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করে না তাদেরকে মৌলিক রাশি বলে। যেমন, কোনো একটা লাঠির দৈর্ঘ্য তুমি যদি স্কেল ব্যবহার করে মাপো তবে ধরা যাক সেটি পাওয়া গেল 10 সেন্টিমিটার। এখানে 10 সেন্টিমিটার পরিমাণটি আমরা সরাসরি স্কেল ব্যবহার করে বের করতে পেরেছি। যেহেতু আমরা একবারে এই স্কেল ব্যবহার করে লাঠির দৈর্ঘ্য বের করতে পেরেছি তাই দৈর্ঘ্য হচ্ছে মৌলিক রাশি। কেননা এটি অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করছে না।

২. লব্ধ রাশি : যেসব রাশি অন্য এক বা একাধিক রাশির ওপর নির্ভর করে তাদেরকে লব্ধ রাশি বলে। যেমন- তুমি একটা আয়তাকার পৃষ্ঠার ক্ষেত্রফল বের করতে চাও, এক্ষেত্রে তোমাকে প্রথমে পৃষ্ঠার দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ আলাদাভাবে স্কেল দিয়ে মেপে বের করতে হবে। তারপর ক্ষেত্রফলের সূত্র অনুযায়ী পৃষ্ঠার ক্ষেত্রফল হবে = দৈর্ঘ্য * প্রস্থ

যেহেতু ক্ষেত্রফল বের করার জন্য আমাদের দুটো রাশি লাগছে তাই ক্ষেত্রফল একটি লব্ধ রাশি।

 

এককের প্রকারভেদ

রাশির প্রকারভেদ অনুসারে একক এর প্রকারভেদও দুই ধরনের।

১. মৌলিক একক : মৌলিক রাশির একককে মৌলিক একক বলে। যেমন- দৈর্ঘ্যের একক মিটার কিংবা সেন্টিমিটার।

এবার আমরা SI পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের মৌলিক এককের নাম ও তাদের চিহ্নের একটা ছক দেখি-

২. লব্ধ একক : লব্ধ রাশির একককে লব্ধ একক বলে। যেমন- ক্ষেত্রফলের একক মিটার কিংবা সেন্টিমিটার

এছাড়া, অতি ক্ষুদ্র পরিমাপের জন্য কিছু ব্যবহারকৃত একক-

  • 1 micro = 1µ = 10-6 unit
  • 1 nano = 1 n = 10-9 unit
  • 1 pico = 1 p = 10-12 unit

অত্যাধিক বড় পরিমাপের জন্য কিছু ব্যবহারকৃত একক-

  • 1 mega = 1 M = 106 unit
  • 1 giga = 1 G = 109 unit
  • 1 tera = 1 T = 1012 unit
  • 1 light year = 9.46 x 1015 meter

 

লব্ধ রাশিকে মৌলিক রাশির মাধ্যমে প্রকাশ

যদি আমাদেরকে কোন রাশি দেওয়া হয় তবে সেটি কোন কোন মৌলিক রাশি সমূহ নিয়ে গঠিত সেটা জানার জন্য আমাদেরকে সেই রাশির সূত্র জানতে হবে। যেমন- যদি বলা হয় বল (force) এর মৌলিক রাশি সমূহ বের করতে তবে আমরা বলের সূত্র থেকে জানি-

F = ma

   = ভর x ত্বরণ

   = ভর x (বেগ / সময়)

   = ভর x (দৈর্ঘ্য / সময়2)

অর্থাৎ বল হচ্ছে দৈর্ঘ্য, সময় এবং ভর এই তিনটি মৌলিক রাশি নিয়ে গঠিত। তবে এই মৌলিক রাশি গুলোকে আরো শর্টকাটে প্রকাশের জন্য আমরা অন্য একটা জিনিস ব্যবহার করি, যাকে মাত্রা বলে। অর্থাৎ মৌলিক রাশিকে ইংলিশে শর্টকাটে প্রকাশের জন্য মাত্রা ব্যবহার করা হয়। পাঁচ ধরনের মৌলিক রাশির মাত্রাকে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় এগুলো হলো-

   ভর = [M]

   দৈর্ঘ্য = [L]

   সময় = [T]

   কারেন্ট = [A]

   রোধক = [R]

তাহলে বলকে যদি এসব মাত্রার মাধ্যমে প্রকাশ করি, তবে আমরা পাবো-

F = [M] x [L] / [T]2

   = [MLT-2]

বলের এই মাত্রা দেখেই বোঝা যায়, বল তিনটি মৌলিক রাশির উপর নির্ভর করে- ভর, দৈর্ঘ্য এবং সময়।

ক্রাশ স্কুলের Youtube চ্যানেলের জয়েন করুন-

www.youtube.com/crushschool

অথিতি লেখক হিসেবে আমাদেরকে আপনার লেখা পাঠাতে চাইলে মেইল করুন-

write@thecrushschool.com

Emtiaz Khan

A person who believes in simplicity. He encourages the people for smart education. He loves to write, design, teach & research about unknown information.