প্রকট এবং প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য (Recessive & Dominant Traits)

তুমি জানো যে তোমার শরীরের যত বিচিত্র বৈশিষ্ট্য সেগুলো সব তোমার বাবা-মায়ের কাছ থেকে এসেছে। তোমরা এটাও জানো যে আমাদের বৈশিষ্ট্যকে কোড করে DNA এবং সেগুলোকে প্রকাশ করে প্রোটিন (Protein). তাহলে এটা বলা যায় যে, তোমার শরীরের সকল বৈশিষ্ট্য ডিপ্লয়েড কোষের ক্রোমোসোমের ভেতর জিনের মধ্যে কোড হিসেবে থাকে।

কিন্তু ভালো করে খেয়াল করো তোমার বৈশিষ্ট্যের কোড (A-T-C-G) আসে তোমার বাবা-মা দুজনের কাছ থেকেই। যেমন তোমার বাবার চুল কালো, আবার তোমার মায়ের চুলও কালো, তখন এই বৈশিষ্ট্য ডিপ্লয়েড কোষের ক্রোমোসোমের জিনের মাধ্যমে তোমার মধ্যে আসবে এবং তোমার চুল কালো হবে।

কিন্তু যদি তোমার বাবা-মায়ের এই বৈশিষ্ট্য দুটো বিপরীত হয়?

যেমন ধরো তোমার মা খাটো, তোমার বাবা লম্বা, কিন্তু দুজনের জিনই তোমার ডিপ্লয়েড কোষে যাবে। তখন কি হবে? তোমার প্রোটিন এই দুটো বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কোনটাকে নিয়ে তোমাকে বৈশিষ্ট্য দান করবে? তখন আমাদের প্রকট এবং প্রচ্ছন্ন এই দুটো বৈশিষ্ট্যের দরকার হয়।

এখন তোমার বাবার থেকে আসা লম্বা বৈশিষ্ট্যের জিনকে T দিয়ে এবং তোমার মায়ের থেকে খাটো বৈশিষ্ট্যের জিনকে t দিয়ে ধরে নিলাম। তোমার জন্ম হয়েছে যে ডিপ্লয়েড কোষ থেকে সেটাতে এই দুটো বৈশিষ্ট্যই থাকবে, তাই সেটার সংকেত হবে- Tt

জন্মের পর তুমি যদি বড় হয়ে দেখো তুমি তোমার বাবার মত লম্বা হয়ে গেছো তবে তোমার বাবার লম্বা হবার জিনটা (T) তোমার ডিপ্লয়েড কোষের জন্য প্রকট বৈশিষ্ট্যের জিন ছিলো। আবার তুমি যদি মায়ের মত খাটো হয়ে যেতে তখন মায়ের খাটো হবার জিনটা (t) হতো তোমার ডিপ্লয়েড কোষের জন্য প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের জিন।

এখানে ভালো করে খেয়াল করবে,

তুমি বাবার মত লম্বা হয়েছো জিনের যে বৈশিষ্ট্যের জন্য সেটাই হচ্ছে প্রকট বৈশিষ্ট্য। আবার তুমি বাবার মত লম্বা হলেও তোমার শরীরে মায়ের দেয়া খাটো বৈশিষ্ট্যের জিনটা (t) কিন্তু তখনো থেকে যায়। কিন্তু সেটা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে পারে না। এই বৈশিষ্ট্যটাকে তখন প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য বলা হয়।

আবার তুমি যদি মায়ের মত খাটো হতে তখন তোমার বাবার দেয়া লম্বা হবার জিনটার (T) বৈশিষ্ট্য হয়ে যেতো প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য। তাই প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য কখনোই তোমার নিজের মধ্যে প্রকাশ পাবে না, সেটা তোমার শরীরে সুপ্ত অবস্থায় থাকবে কিন্তু তোমার পরবর্তী বংশধরে গিয়ে বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করবে।

এখন আমরা ডিপ্লয়েড কোষের ৪টা কন্ডিশন দেখি যেগুলোতে কখনো কখনো তোমার বাবা-মা দুজনেই প্রকট জিনের অধিকারী, কখনো দুজনেই প্রচ্ছন্ন জিনের অধিকারী, কিংবা কখনো একজন প্রকট একজন প্রচ্ছন্ন জিনের অধিকারী-

   ডিপ্লয়েডে TT থাকলে- তুমি লম্বা হবে

   ডিপ্লয়েডে tt থাকলে- তুমি খাটো হবে

   ডিপ্লয়েডে Tt থাকলে- তুমি লম্বা হবে

   ডিপ্লয়েডে tT থাকলে- তুমি লম্বা হবে

এখানে বোঝানোর সুবিধার জন্য আমরা T-কে প্রকট এবং t-কে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য ধরেছি।

এখানে আরেকটু কথা আছে। উপরে ৪টা ডিপ্লয়েড কোষের গঠনে দেখো, যখন দুটো জিনের গঠন একই মানে দুটোই প্রকট (TT) কিংবা দুটোই প্রচ্ছন্ন (tt), তখন এই অবস্থাকে হোমোজাইগাস / homologous condition বলে।

আর

যখন জিন দুটোর একটা প্রকট একটা প্রচ্ছন্ন, যেমন-Tt অথবা tT থাকে তখন এই অবস্থাকে হেটারোজাইগাস / heterozygous condition বলে।

সবশেষে খুব সুন্দর একটা জিনিস বুঝে নাও, হোমোজাইগাস অবস্থায় দুটো জিন একইরকম (TT অথবা tt) থাকে বলে আমরা তাদের মধ্যে প্রকট কিংবা প্রচ্ছন্নের কথা বলি না, তারা দুজন যেরকম জিন তারা সেরকম বৈশিষ্ট্যই প্রকাশ করবে আমাদের।

কিন্তু, ভালো করে খেয়াল করো, হেটারোজাইগাস অবস্থায় আমাদের অবশ্যই বলতে হবে একটা প্রকট আরেকটা প্রচ্ছন্ন (Tt কিংবা tT) বৈশিষ্ট্য। তাই,

হেটারোজাইগাস অবস্থায় যে জিন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে পারে সেটাকে প্রকট বৈশিষ্ট্য বলে, আর যে জীন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে পারে না সেটাকে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য বলে। 

অর্থাৎ প্রকট এবং প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য শুধুমাত্র হেটারোজাইগাস কন্ডিশনের থাকবে, কখনোই হোমোজাইগাস কন্ডিশনে থাকবে না।

ক্রাশ স্কুলের Youtube চ্যানেলের জয়েন করুন-

www.youtube.com/crushschool

অথিতি লেখক হিসেবে আমাদেরকে আপনার লেখা পাঠাতে চাইলে মেইল করুন-

write@thecrushschool.com

Emtiaz Khan

A person who believes in simplicity. He encourages the people for smart education. He loves to write, design, teaching & research about unknown information.