বিজ্ঞানীদের কাজের ধারা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি

বিজ্ঞানের সাথে জড়িত আছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ। এসব কাজ করতে হবে পদ্ধতিগতভাবে, সুশৃঙ্খল উপায়ে বিজ্ঞান সম্মত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। বিভিন্ন বিজ্ঞানী বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা, বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন গবেষণা করেন তাঁদের কাজের ধারা বিভিন্ন হতে পারে। কিন্তু সবাই ধারাবাহিকভাবে কাজ করেন, পদ্ধতিগতভাবে সুশৃঙ্খল উপায়ে কাজ সম্পন্ন করেন। তাঁরা বিভিন্ন কাজ করলেও তাঁদের কাজের ধারার মধ্যে একটা পদ্ধতিগত মিল আছে। বিজ্ঞানীদের ব্যবহৃত এই যে সাধারণ পদ্ধতি তাকে বলা হয় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বিকাশে চারজন বিজ্ঞানীর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁদের কাজের ধারা থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বিকাশ সহজে বোঝা যায়। এরা হলেন গ্রিক দেশের খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীর বিজ্ঞানী ও দার্শনিক অ্যারিস্টটল, ষোড়শ শতাব্দীর বিখ্যাত লেখক ফ্রান্সিস বেকন (F. Bacon. ১৫৬১ – ১৬১৬), ইতালির বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিদ গ্যালিলিও এবং পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতবিদ স্যার আইজ্যাক নিউটন।

বিজ্ঞানীরা কীভাবে কাজ করেন?

১। বিজ্ঞানী পর্যবেক্ষণ করেন। ফ্রান্সিস বেকন কোনো ঘটনা বা সত্যের পর্যবেক্ষণের ওপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করতেন। তিনি কোনো ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে সংগৃহীত তথ্যের ওপর বেশি জোর দিতেন। তিনি মনে করতেন বিচার বুদ্ধির সাহায্যে তত্ত্বে পৌঁছান যায়।

২। কোনো কিছু কেন ঘটে? কীভাবে ঘটে? বিজ্ঞানী সে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেন। গ্যালিলিও গ্যালিলিও বেকনের মত শুধু পর্যবেক্ষণেই জোর দিতেন না। তার প্রশ্ন ছিল কোনো কিছু কেন ঘটে? কীভাবে ঘটে? তিনি কোনো কিছু কেন ঘটে এবং কীভাবে ঘটে তা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করে যাচাই করতেন। তিনি গতি বিষয়ক গাণিতিক সূত্র এবং দোলকের সূত্র প্রদান করেন। দোলকের গতি পর্যবেক্ষণ করে দোলকের সুত্র প্রদান করেন। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কোনো কিছু গ্রহণ করতেন না। তিনি ছিলেন পরীক্ষণ নির্ভর বিজ্ঞানী।

৩। বিজ্ঞানী তার পর্যবেক্ষণকে যাচাই করেন, পরীক্ষণের জন্য চিন্তা করেন এবং তত্ত্ব প্রদান করেন। অ্যারিস্টটলের কাজের ধারার বৈশিষ্ট্য ছিল যে তিনি শুধু প্রশ্ন করতেন এবং এসব প্রশ্নের উত্তরদানের জন্য তত্ত্ব তৈরি করতেন।

৪। বিজ্ঞানী তার তত্ত্বকে যাচাই পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পরীক্ষণের ব্যবস্থা করেন। গ্যালিলিও পরীক্ষণের ওপর বেশি জোর দিতেন এবং নিউটন পরীক্ষণ ও প্রাপ্ত ফলাফলকে গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশের প্রতি জোর দিতেন।

৫। বিজ্ঞানী তার পরীক্ষালব্ধ ফলাফল থেকে তার তত্ত্বকে প্রয়োজনে পরিবর্তন বা সংশোধন করেন।

৬। বিজ্ঞানী অন্যান্য পর্যবেক্ষণ ব্যাখ্যা করতে বা ভবিষ্যতের ঘটনাবলি সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারেন। উপরিউত্ত ধাপগুলো সমন্বয়ে গঠিত হয় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। নিচের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির একটি প্রবাহ চিত্র দেওয়া হল-

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বিভিন্ন ধাপ লেখা যায়-

  • সমস্যা নির্দিধারণ
  • সমস্যাটি সম্পর্কে তথ্য সহ ও বিশ্লেষণ
  • অনুমিত সিদ্ধান্ত (Hypothesis) গ্রহণ
  • পরীক্ষার পরিকল্পনা, পরীক্ষণ, পর্যবেক্ষণ ও অনুমিত সিদ্ধান্ত যাচাই
  • পরিক্ষালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে অনুমিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ বর্জন বা সংশোধন
  • ফল প্রকাশ

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কি শুধু বিজ্ঞানীরাই ব্যবহার করেন? না, যে কোনো সাধারণ লোকও এ পাতি তার দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করতে পারেন। যে কোনো ব্যক্তি এসব যাপ অনুসরণ করে কোনো কাজ করলেই তিনি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করছেন বলা যায়।

পড়াশোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শত শত ভিডিও ক্লাস বিনামূল্যে করতে জয়েন করুন আমাদের Youtube চ্যানেলে-

www.youtube.com/crushschool

ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool