সুপারনোভা কি? (What is Supernova?)

সুপারনোভা কি এটা জানার আগে আরেকটা জিনিস জানবো। চন্দ্রশেখর সীমার ক্ষেত্রে যদি কোনো নক্ষত্রের জন্মের সময়কার ভর 1.5M0 থেকে 3M0 পর্যন্ত হয় তবে সেই নক্ষত্রগুলোর শেষ পরিণতি কখনোই শ্বেত বামন কিংবা কালো বামন হিসেবে হবে না। কেননা এক্ষেত্রে নক্ষত্রের ভর অনেক বেশি গুন বেড়ে গিয়েছে।

তাই 1.5M0 – 3M0 এই সীমার মধ্যে থাকা ভরের নক্ষত্র যখন সম্প্রসারিত হওয়া শুরু করে তখন তাদের সম্প্রসারণ সীমা অতিক্রম করার সময় আগের মতই একটা বিশাল বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে এই বিস্ফোরণটি নোভা স্টার বিস্ফোরণের চেয়েও অনেক গুণ বেশি শক্তিশালী। এই বিস্ফোরণকে সুপারনোভা (Supernova) বলে। কাজেই 1.5M0 থেকে 3M0 সীমা পর্যন্ত ভর যুক্ত নক্ষত্রের ক্ষেত্রে সুপারনোভা বিস্ফোরণ ঘটে।

সুপারনোভা বিস্ফোরণে নক্ষত্রের প্রোটন এবং ইলেকট্রন এরা দুজন মিলে নিউট্রন তৈরি করে। অর্থাৎ এটি একটি নিউক্লিয় বিক্রিয়া

বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রন এবং প্রোটন মিলে সুপারনোভা বিস্ফোরণে নিউট্রন তৈরি করে বলে সুপারনোভা বিস্ফোরণের পর নক্ষত্রের যে অবস্থা থাকে তাকে নিউট্রন স্টার (Neutron star) বলে।

কাজেই কোনো নক্ষত্রের জন্মগত ভর যদি 1.5M0 থেকে 3M0 হয় তবে তার শেষ পরিণতি হবে নিউট্রন স্টার। এবার আমাদের জানতে হবে নিউট্রন স্টার হলে নক্ষত্রের মধ্যে কি কি বৈশিষ্ট্য দেখা যায়-

সুপারনোভা বিস্ফোরণের ফলে নক্ষত্রের আকার অনেকাংশে কমে যায় এবং নিউট্রন স্টার সৃষ্টি হয়। একইসাথে নক্ষত্রের কৌণিক বেগ বেড়ে যায়। আমরা জানি কৌণিক বেগ এবং ব্যাসার্ধ একে অপরের ব্যস্তানুপাতিক। যেহেতু নক্ষত্রের সুপারনোভা বিস্ফোরণে ব্যাসার্ধ কমে গিয়েছে তাই এর কৌণিক বেগ বেড়ে যাবে।

এছাড়া নিউট্রন স্টার এর মধ্যে একটা বড় মানের চুম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার কারণ হচ্ছে নিউট্রন স্টার এর মধ্যে কিছু চার্জ যুক্ত পর্টিকেল বা চার্জ যুক্ত কণিকা (Charged Particle) থাকে। এসব Charged পার্টিকেল গুলো নিউট্রন স্টার এর দুই মেরু বা pole এর মধ্যে গিয়ে জমা হয়। ফলে প্রতিটা মেরু থেকে রেডিয়েশন বের হয় এবং পুরো নিউট্রন স্টার একটি চুম্বক এর মত আচরণ করে।

একটা দন্ড চুম্বকের দুটো মেরুতে চুম্বক শক্তি সবচেয়ে বেশি থাকে এবং মেরু থেকে চুম্বক বলরেখা গুলো বের হয়। নিউট্রন স্টারে ঠিক এই বৈশিষ্ট্য গুলো বেশি দেখা যায়, তাই নিউট্রন স্টারকে আমরা দন্ড চুম্বক হিসেবে কল্পনা করতে পারি।

নিউট্রন স্টারের দুই মেরু থেকে যে রেডিয়েশন বের হয় সেটি ধারাবাহিকভাবে বের হয় না। রেডিয়েশন গুলো পালস (Pulse) আকারে নির্দিষ্ট সময় পর পর বের হয়। পালস আকারে বের হওয়া এই রেডিয়েশনকে রেডিও পালস বা বেতার তরঙ্গ বলে। পালস আকারে রেডিয়েশন বিকিরণ করার জন্য নিউট্রন স্টার এর আরেক নাম হচ্ছে পালসার।

ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool

অতিথি লেখক হিসেবে আমাদেরকে আপনার লেখা পাঠাতে চাইলে মেইল করুন-

write@thecrushschool.com