নক্ষত্রের শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি (The Basis of the Class of Stars)

সূর্যের মতো মহাকাশের প্রতিটা নক্ষত্রই হচ্ছে বিশাল গ্যাসের ভান্ডার এবং তাদের সাইজও অনেক বড়। সবগুলো নক্ষত্র তৈরি হয় হাইড্রোজেন গ্যাস দিয়ে এবং তারা নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল শক্তি তৈরি করে। এই শক্তির জন্য নক্ষত্রদের অনেক বেশি উজ্জ্বল দেখায় এবং তারা আলো নির্গত করে। নক্ষত্র বা তারাদের ভাগ করা হয় তাদের বর্ণ, তাপমাত্রা, সাইজ, রাসায়নিক গঠন (Chemical composition) এবং উজ্জ্বলতার উপর ভিত্তি করে।

Color & Temperature (বর্ণ ও তাপমাত্রা)

যদি আমরা রাতের আকাশের দিকে তাকাই তবে আমরা বিভিন্ন বর্ণের তারা দেখতে পাবো। যদিও খালি চোখে সেগুলোর বর্ণ বোঝা খুব মুশকিল। Orion নক্ষত্রপুঞ্জের মধ্যে হালকা লাল বর্ণের তারা দেখা যায়, যার নাম Betelgeuse. এছাড়া নীলাভ সাদা বর্ণের তারাও এর মধ্যে দেখা যায়, যার নাম Rigel.

একটা তারার তাপমাত্রা কম-বেশি হলে সেই তারাটির বর্ণ পরিবর্তন হয়। যেসব তারা ঠান্ডা প্রকৃতির এবং যাদের তাপমাত্রা 3200 ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি, তাদের বর্ণ হয় কিছুটা লাল বর্ণের হয়। আবার যেসব তারার তাপমাত্রা 5500 ডিগ্রি সেলসিয়াস, তাদের বর্ণ হয় হলুদ। যেসব তারাদের তাপমাত্রা অনেক বেশি যেমন 20000 ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি, তাদের বর্ণ হয় নীলাভ ধরনের।

Size (আকার)

যখন আমরা আকাশের দিকে তাকাই তখন প্রায় প্রতিটা তারাকে একই সাইজের দেখতে পাই। কিন্তু তারা আসলে সবাই একই সাইজের না। কিছু কিছু তারাদের সাইজ আমাদের সূর্যের সমান, এদেরকে মিডিয়াম সাইজের তারা (Medium sized star) বলা হয়। আবার কিছু কিছু তারা সূর্যের চেয়েও বহুগুণ বড়, কিন্তু তারা অনেক অনেক আলোকবর্ষ দূরে থাকে বলে তাদেরকে আমরা বিন্দুর মতো দেখতে পাই। অনেক বড় ধরনের তারাদের দৈত্যকার নক্ষত্র বা giant star বা super giant star বলে। যদি Betelgeuse নামক giant star আমাদের সূর্যের জায়গায় বসতো, তবে সেটা এত বিশাল পরিমান সৌরজগতের জায়গা দখল করতো যে তার পরিধি বৃহস্পতি গ্রহ পর্যন্ত পৌঁছাতো।

কিছু কিছু তারা আমাদের সূর্যের চেয়েও ছোট, যেমন সাদা বামন (white dwarf) নক্ষত্র। এগুলোর সাইজ আমাদের পৃথিবীর সমান। এছাড়া নিউট্রন স্টার এর সাইজও অনেক ছোট, যাদের diameter মাত্র 20 কিলোমিটার।

Giant star গুলো সাধারনত আমাদের সূর্যের 10 থেকে 100 গুন বড় এবং সাদা বামন (white dwarf) তারাদের চেয়ে 1000 গুন বড়।

নিচে বিভিন্ন তারাদের সাইজের তুলনামূলক ছবি দেওয়া হল-

Chemical Composition (রাসায়নিক উপাদান)

প্রতিটা নক্ষত্র রাসায়নিক উপাদান নিয়ে গঠিত। এসব রাসায়নিক উপাদান গুলোর মধ্যে গ্যাসীয় উপাদান সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে। প্রায় প্রতিটা নক্ষত্রের মধ্যে 70% হাইড্রোজেন gas, 25% হিলিয়াম এবং 2% অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান থাকে। আমাদের সূর্যের মধ্যেও ঠিক একই পরিমাণ রাসায়নিক উপাদান রয়েছে। নক্ষত্রের রাসায়নিক উপাদান গুলোর উপর ভিত্তি করেও নক্ষত্রকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়।

ক্রাশ স্কুলের নোট গুলো পেতে চাইলে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে-

www.facebook.com/groups/mycrushschool

অতিথি লেখক হিসেবে আমাদেরকে আপনার লেখা পাঠাতে চাইলে মেইল করুন-

write@thecrushschool.com

Emtiaz Khan

A person who believes in simplicity. He encourages the people for smart education. He loves to write, design, teach & research about unknown information.